কী হবে? যদি একটা এ্যানাকোন্ডা আপনাকে জীবন্ত খেয়ে ফেলে ?

হ্যালো বন্ধুরা

পৃথিবীর সবথেকে বড় সবগুলো অ্যামাজনে বাস করে । তারা ছাগল হরিণ এমনকি কুমির পর্যন্ত আস্ত গিলে খেয়ে ফেলে । কিন্তু কি হবে যদি একটা অ্যানাকোন্ডা আপনাকে আস্ত খাওয়ার চেষ্টা করে । একটা এনাকোন্ডা কি আস্ত মানুষ গিলে ফেলতে পারে ? যদি পারে তাহলে আপনি তার বডির ভেতরে কতক্ষণ পর্যন্ত ট্রাভেল করতে পারবেন ?

এরকমটা কি পৃথিবীর ইতিহাসে আগে কখনো হয়েছে ? আর এসব প্রশ্নের উত্তর আজ আমরা দিতে যাচ্ছি অর্থাৎ কি হবে যদি আপনাকে কোন অ্যানাকন্ডা আস্ত গিলে খেয়ে ফেলে ?

গ্রিন অ্যানাকোন্ডা

পৃথিবীর সবথেকে বড় সাপ অ্যানাকোন্ডা । যা গ্রিন অ্যানাকোন্ডা নামে পরিচিত । এইসব সাধারণত অ্যামাজনের জঙ্গলে পাওয়া যায় । একটি অ্যানাকোন্ডা সাপ প্রায় 9 মিটার বা 30 ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে।এবং এর ওজন 250 কেজি পর্যন্ত হতে পারে । যা একজন মানুষের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি প্রায় সময়ই দেখা যায়।

এই প্রজাতির গ্রীন অ্যানাকন্ডা 18 থেকে 25 কেজি ওজনের শিকার খেতে বেশি পছন্দ করে থাকে। আর এই গ্রীন অ্যানাকন্ডার শিকারের তালিকা রয়েছে ছাগল, হরিণ, কুমির ইত্যাদি প্রানী। অ্যানাকোন্ডা শিকার যতই লম্বা হোক না বা কেন এর প্রস্তুতি যাই হোক এতে করে অ্যানাকোন্ডার শিকার ধরতে অ্যানাকন্ডার  কোন রকম অসুবিধা হয় না।

কিন্তু শিকারের এর ওজন অ্যানাকোন্ডার জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটা ব্যাপার । কারন 45 কেজি ওজন পর্যন্ত অ্যানাকন্ডা শিকার করে থাকে। যার মধ্যে মানুষ অন্তরগত।  কিন্তু অ্যানাকন্ডা যদি 45 কেজির বেশি ওজনের কোন প্রাণী শিকার করে ফেলে তবে অ্যানাকোন্ডা এই ওজনের জন্য কয়েক মাস বা কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলাচল করতে পারে না।

আরও পড়ুনঃ কি আছে পৃথিবীর গভীরতম গর্তে?

কারণ এত ওজনের প্রাণী অ্যানাকন্ডার পাকস্থলীতে হজম হতে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সময় লাগে। আর এজন্যই অ্যানাকন্ডার বেশি ওজনের প্রাণীকে শিকার করতে চায় না। কিন্তু যখন তার শিকারে অভাব দেখা দেয় তখন সে খাদ্যাভাবে তার শিকার যতই ওজন হোক না কেন তাকে শিকার করে ফেলে।

একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষ কি দিয়ে অ্যানাকোন্ডার পুরোপুরিভাবে গিলে ফেলতে পারবেন ? এই পরীক্ষাটা করার জন্য 2014 সালের ডিসকভারি চ্যানেলে একটি সো দেখানো হয়েছিল। একজন ব্যক্তি কার্বন ফাইবার দিয়ে তৈরি একটি সুট পড়ে এনাকোন্ডার মুখোমুখি হয়েছিলেন। তার সুটে সুকরের রক্ত লাগানো ছিল।

যাতে করে এনাকন্ডা থাকে এই রক্তের গন্ধ পেয়ে শিকার মনে করে । আর ঠিক তেমনটাই হয়েছিল । অ্যানাকন্ডার পলের উপরে হামলা করে বসে।  এবং তাকে পেচিয়ে ধরে প্রবল চাপ দিতে থাকে। এরপর যখন অ্যানাকন্ডার মনে হয় যে পাল মারা গিয়েছে। তখন অ্যানাকন্ডা তাকে গিলে ফেলার চেষ্টা করতে থাকে। কিন্তু প্রায় এক ঘন্টা ধরে গিলে ফেলার চেষ্টা করেও পলকে পুরোপুরি ভাবে গিলতে পারেনি।

কারণ পলের সুট স্পেশালভাবে ডিজাইন করা হয়েছিল। আর এই সুটের কারণে এই অ্যানাকন্ডার প্রবল চাপে এবং অ্যানাকন্ডার পেটের ভিতরের জীবিত থাকতে পেরেছিল। যদি এনাকোন্ডা পলকে পুরোপুরিভাবে গিলেও ফেলতো  তবুও পল সুটের মাধ্যমে জীবিত থাকতে পারতো।

যদিও 85 মিনিট ধরে পল এনাকোন্ডার সাথে যুদ্ধ করা সত্ত্বেও বলে তেমন কিছু হয়েছিল না। পরবর্তীতে যখন 2014 সালের 27 শে ডিসেম্বর এই শো টি  ডিসকভারিতে প্রকাশ করা হয়েছিল। তখন এটি খুবই সমালোচিত হয়েছিল । আর এসব সমালোচনার মুখে পড়ে ডিসকভারিতে প্রকাশ করা হয়েছিল তখন এটি খুবই সমালোচিত হয়েছে আরে সব সমালোচনার মুখে পড়ে ডিসকভারি কে এই শো এর পরবর্তী অংশগুলো প্রচার করা বন্ধ করতে হয়েছিল।

তবে যাই হোক বিগত কিছু দশকে এনাকোন্ডা অনেক সংখ্যক মানুষকে খেয়ে ফেলার ঘটনা ঘটিয়েছে। আর এখান থেকেই আমাদের মনে প্রশ্ন আছে যেটি হবে যদি একজন মানুষকে এনাকন্ডা পুরোপুরিভাবে গিলে ফেলে?

বন্ধুরা

কি হবে যদি একটা অ্যানাকোন্ডার দীর্ঘদিন পর্যন্ত ক্ষুধার্ত থাকে এবং আপনি সেই অ্যানাকোন্ডার সামনে পড়ে যান । এই অবস্থায় আপনার সাথে কি কি ঘটতে পারে ? প্রথমে এনাকোন্ডা আপনাকে প্রবল চাপে মেরে ফেলতে চাইবে । এরপর যখন আপনি মারা যাবেন তখন এনাকোন্ডা আপনাকে সম্পূর্ণভাবে গিলে ফেলার চেষ্টা করবে ।

যাতে করে গিলে ফেলার সময় শিকার কোন ধরনের বাধা না দিতে পারে সেটা করার জন্য কখনো কখনো অ্যানাকোন্ডা শিকারের উপরে 9 হাজার পাউন্ড এর বেশি চাপ দিয়ে থাকে । আর এই চাপের ফলে কোন মানুষের পক্ষেই বেঁচে থাকা প্রায় অসম্ভবই বলা যায় । কিন্তু তারপরও যদি আপনি প্রবল চাপ সহ্য করে বেঁচে থাকেন । তারপর আপনার কী হবে?

তারপর এনাকোন্ডা আপনাকে গিলে ফেলার জন্য তার চোয়াল প্রশস্ত করতে থাকবে । এনাকোন্ডার আরো একটি বিশেষত্ব হলো এনাকোন্ডা কখনো তার শিকারকে চিবিয়ে না খেয়ে পুরোপুরিভাবে গিলে ফেলে। কারণ এর দাত এমন ভাবেই তৈরি করা হয়েছে। যাতে শিকারকে ধরে আস্তে পেটে ঢুকাতে পারে। এতে করে শিকারের শারীরিকভাবে তেমন কোন ক্ষতি হয়না।

অন্যান্য সাপের মত এনাকোন্ডা বিষ থাকে না । এর ফলে এনাকোন্ডার পেটের ভেতরে ঢোকার ফলে আপনি কোন রকম বিষের প্রভাবেও প্যারালাইস হবেন না। কিন্তু অ্যানাকোন্ডার লালার জন্য আপনাকে নানা রকম সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে।  এনাকোন্ডা তার এই  লালা তার শিকারকে পিচ্ছিল ভাবে গিলে ফেলার জন্য ব্যবহার করে থাকে। আপনি এই সময় আলিমেন্টারি ক্যানাল এই অংশে ট্রাভেল করবেন । যার গলা কে পেটের সাথে সংযুক্ত করেছে।

এখানে অন্যান্য প্রাণীর মতো অ্যানাকোন্ডার গ্রাসনালী মাসল আপনাকে তার পেটের ভেতরের দিকে ঢুকাতে সাহায্য করবে। তাছাড়া এনাকোন্ডার মাছল গুলোকে মুভ বিভিন্নভাবে করানোর ক্ষমতা রয়েছে । যা আপনার বডিকে এনাকোন্ডার পেটের ভেতরের দিকে ঠেলতে সাহায্য করবে।আর এভাবেই এনাকোন্ডা আপনাকে পেটের ভেতরে ঢুকিয়ে ফেলবে এবং এখন আপনি এনাকোন্ডার পেটের ভেতরে অবস্থান করছেন।

ধরে নিলাম আপনি এখনো কোনো ভাবে বেঁচে আছেন কিন্তু এরপর আপনার সাথে যা ঘটতে চলেছে তার ফলে আপনি হয়তোবা আর কখনো বেঁচে উঠতে পারবেন না । কারণ অ্যানাকোন্ডার পেটে পাওয়ারফুল অ্যাসিড এবং পাওয়ারফুল এনজাইম নির্গত করে । যা আপনার শরীরের সমস্ত অঙ্গ  সহ আপনার হাড় পর্যন্ত গলিয়ে ফেলতে পারে।

এনাকোন্ডা একটি এলিগেটর বা কুমিরের স্ক্রিন এবং বডিকে মাত্র 3 দিনে ভ্যানিশ করতে পারে । তাই বলা যায় আপনার শরীরের সমস্ত অঙ্গ ছিন্নভিন্ন হতে শুরু করবে। কারণ এনাকন্ডা পেটে পাওয়ারফুল এসিড এবং এনজাইম নির্গত করে ।

যখন আপনি এনাকন্ডা ভিতরে প্রবেশ করবেন তখন আপনার শরীর ছোট ছোট টুকরো হয়ে ভেঙে পড়বে । এই পয়েন্টে আপনার শরীরের চামড়া, চুল, নখ ভিজল হয়ে পড়বে এবং আপনি যদি কোনো ম্যাজিক্যাল সুট পড়েও থাকেন । যা আপনাকে এসিড থেকে রক্ষা করতে পারে তাতেও কোনো লাভ নেই । কারণ বাইরে থেকে অন্য কেউ চেষ্টা না করলে আপনি কোনোভাবেই এনাকোন্ডার পেট থেকে বাইরে বের হতে পারবেন না ।

তাই অ্যানাকন্ডা কে যদি কখনো দেখেন তবে আক্রমণ না করে এর মত চলে যেতে দিন। কারণ এনাকোন্ডা এমনিতেই খুব শান্তিপ্রিয় প্রাণী। তাছাড়া এরা সবসময় নিজেদেরকে মানুষের কাছ থেকে দূরে রাখতে চেষ্টা করে এবং এরা মানুষদেরকে নিজেদের হুমকি বলে মনে করে

Leave a Comment