কি হয়েছিল চাঁদে লাগানো পৃথিবীর প্রথম চারা গাছটির

মহাকাশে জীবনে অস্তিত্ব খুঁজতে গিয়ে চীন চাঁদের ঐ অংশে পৌঁছেছে যেখানে এখন পর্যন্ত কেউ যেতে পারিনি। এরপর তারা চাঁদের প্রথমবার তুলার চারা রোপণ করেছিল। এটা প্রথমে শুনে পৃথিবীর সবাই অনেক খুশি হয়েছিল। আর বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছিল চাঁদ  এ জীবের বসবাসের আশা।

কিন্তু এখন পর্যন্ত আমাদের জন্য একটি খারাপ সংবাদ রয়েছে।চীন যখন 15 জানুয়ারি চাঁদে প্রথম তুলার চারা রোপণ করেছিল, তখন মানুষ চাঁদে যাওয়ার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। অনেকেতো তাদের ব্যাগও গুছিয়ে নিয়েছে। এবার আপনাদের বলে দেই ওই চারা 16 জানুয়ারি নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আর এতে পাওয়া যাচ্ছে মহাকাশে মানুষের স্বপ্ন নষ্ট হওয়ার গন্ধ।

যারা চাঁদে যাওয়ার জন্য তাদের ব্যাগ গুছিয়ে রেখে ছিলেন তাদের হয়তো একটু কষ্ট পেতে হবে।যারা চাঁদে যাওয়ার জন্য তাদের ব্যাগ গুছিয়ে রেখেচিলেন তাদের হইত একটু কষ্ট পেতে হবে। কারণ চাঁদ এ রোপন করা তুলার চারা রাতে চাঁদের তাপমাত্রা -170 ডিগ্রী সেলসিয়াসে নেমে যাওয়ার কারণে নষ্ট হয়ে গেছে।

আমরা সবাই জানি কোন গাছকে বড় করতে হলে অবশ্যই সূর্যের আলো প্রয়োজন। দিনের বেলায় তুলার চারাটি আলোতেই ছিল কিন্তু রাতের বেলায় চাঁদ এর তাপমাত্রা নেমে যায় 170 ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আর এই তাপমাত্রা চারা সহ্য করতে পারেনি এবং গাছটি মরে যায়। চাঁদের এক রাত পৃথিবীর ২ সপ্তাহের সমান আর সাথে সাথেই তাপমাত্রা ঐখানে কমে যায়। আর দিনের তাপমাত্রা 120 ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে পৌঁছে যায়।

আপনাদের বলে দেই, চীন 3 জানুয়ারি 2019 সালে চেঙ্গা 4 মহাকাশযান চাঁদে ঐ অংশে অবতরণ করেছিল যেখানে এখন পর্যন্ত মানুষ যেতে পারেনি মানে চাঁদের অন্ধকার পাশ। জানা গেছে চাঁদের ওই অংশ উুচু নিচু ছিল। বিজ্ঞানীরা একটি স্পেশাল কন্টিনার এর মাধ্যমে আলু, সরিষা, তুলার সাথে সাথে মাছির ডিম এবং ছত্রাক চাঁদে পাঠিয়েছিল। কিন্তু ওইসব চারার মধ্যে শুধুমাত্র তুলার চারা রোপণ করা গিয়েছে। আর কোন চারার গ্রোথ দেখা যায়নি।

কিন্তু বিজ্ঞানীরা আলু ও সরিষার ছাড়া অঙ্কুরিত হওয়ার আশা যদি করেছিল। তুলার চারা রোপন করার সাথে সাথেই চীন একমাএ দেশ হয়ে গিয়েছে যারা চাঁদে বীজ রোপন করেছে।এই প্রযেক্টটি নেতৃত্ব দেওয়া চিনের chongqing university প্রফেসর সেং চেহা যায় চিং বলেছেন, তাদের আগে থেকেই গাছটি মরে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। কারণ রাতের বেলায় ওই জায়গায় কোন গাছ বেঁচে থাকার সম্ভাবনা একেবারে শূন্য।

আরো জানায় ল্যান্ডিং করার পর রবিবার প্রথম রাত ছিল। রবিবার থেকে চ্যাঙা ফোর সিলিপিং মোডে চলে গিয়েছিল।। আস্তে আস্তে গাছপালা চাদে ডিকম্পজ হয়ে যাবে।  আর এতে চাদের আবহাওয়ার কোন পরিবর্তন হবে না। আর সে আরও জানায়,তারা প্রথম চাদে চারা লাগানোর পরিকল্পনা করেছিল । তাদের এই সম্পর্কে কোন ধারণা ছিল না যে চাদের আবহাওয়া কেমন।

যেই কন্টেইনারে চারা রোপন করা হয়েছিল সেখানে পানি আরা বাতাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তার সাথে সাথে সূর্যের আলোর জন্য এতে একটি টিউব লাগানো হয়েছিল।আর এর মাধ্যমেই সূর্যের আলো তার ভেতরে গিয়ে বীজ থেকে চারা গজানোর প্রকিয়া করত। কিন্তু রাত হতেই চাদে ঠান্ডা বেড়ে যায়। আর বীজ ঠান্ডা সহ্য করতে পারেনি, ফলশ্রুতিতে শুকিয়ে মারা গেছে।

আর এর সাথে সাথে চাদের বসবাসের অযোগ্য হয়ে গেছে। তবে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, তারা এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তে যেতে চান না। যে আসলে কি জীবনযাপন করা যাবে কিনা? কারণে বীজের সাথে সাথে মাছের ডিমও রাখা হয়েছিল। এখনও আশা রয়েছে বাকি বীজগুলো ইকোসিস্টেম হয়ে গাছ গুলো মাছিকে অক্সিজেন প্রদান করবে। আর মাছি ছত্রাক এর উপর নির্ভর করবে। 

আর সালোকসংশ্লেষণ এর জন্য প্রয়োজনীয় কার্বন-ডাই-অক্সাইড প্রভাইড করবে। আপনাদের আরো জানিয়ে দিন চায়নার মহাকাশ এজেন্সি এখনও এই কথা খোলসা করে নি মাছির ডিম থেকে বাচ্চা ফুটেছে কি না । বিজ্ঞানীরা বলেন মাছি অলস জীব আর এরা বড় হয়েও ডিম থেকে বের হয়ে আসে না। তাহলে আমরা বলতেই পারি চাঁদে জীবন যাপনের একটু আশা এখনো বাকি রয়েছে। এখন দেখার বিষয় মাছি কখন থেকে বের হয়ে আসে ।

Leave a Comment