লড়াইয়ে সিংহও হার মানে এই কুকুরের কাছে ?

হ্যালো বন্ধুরা

আমাদের মধ্যে অনেকেই নানারকম পশুপাখি অনেক পছন্দ করে। কেউ কেউ শখের বসে বিড়াল পোষে আবার কেউ কেউ নানা রকম পাখি পোষা পছন্দ করে। আবার কেউ কুকুর পুষতে অনেক পছন্দ করে । তবে এসব প্রাণীর মধ্যে সবথেকে বেশি প্রভুভক্ত প্রাণী কুকুর এটা আমরা সবাই জানি।

এই প্রভুভক্ত প্রাণী তার প্রভুর জন্য নিজের জান দিয়ে দিতে পারে। আবার অন্যের জীবনে নিয়ে নিতে পারে। তবে কিছু প্রজাতির কুকুর আছে এরা এতটাই ভয়ঙ্কর যে, কোন কোন দেশে এসব কুকুর পালন ব্যান করা হয়েছে।

পিটবুল ডগ

পৃথিবীতে নানারকম কুকুরের প্রজাতির মধ্যে পিপল প্রজাতির কুকুর গুলো সব থেকে ভয়ানক আক্রমণাত্মক হয়ে থাকে। এ প্রজাতির কুকুর গুলোর ওজন 16 থেকে 30 কেজির মধ্যে হয়ে থাকে। এ প্রজাতির কুকুর ভয়ানক আক্রমনাত্মক তাই বিভিন্ন দেশে এই প্রজাতির কুকুর পালন ব্যান করা হয়েছে।

তবে আমেরিকার কিছু কিছু অঙ্গরাজ্যে খুবই গোপনীয় তার সাথে এই কুকুর পালন করা হয়ে থাকে। এই কুকুর এতটাই ভয়ানক যে এই কুকুর নিজের আকারের চেয়ে তিনগুণ বড় প্রাণীর সাথে লড়াই করতে পারে। 4 জন ব্যক্তি এক দিনে যে পরিমাণ খাবার খায় এই কুকুর একাই সে পরিমাণ খাবার খেয়ে থাকে।

জার্মান শেফার্ড

বিভিন্ন দেশের পুলিশ তাদের বিভিন্ন তল্লাশি কাজে এসব কুকুর ব্যবহার করে থাকে। এগুলো আকারে অনেক বড় হয়ে থাকে। এই প্রজাতির কুকুর গুলো অনেক সতর্ক এবং অনেক গতিশীলতার সাথে দৌড়াতে সক্ষম । এই প্রজাতির কুকুরের ঘ্রাণশক্তি এতটাই বেশি যে, যেকোনো পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সন্ত্রাসী এবং গোলাবারুদ উদ্ঘাটন করতে পারে। এই প্রজাতির কুকুরের ওজন 30 থেকে 40 কেজির মধ্যে হয়ে থাকে। পৃথিবীর অনেক দেশেই এই কুকুর ব্যান করা হয়েছে । কিন্তু পুলিশের তল্লাশির কাছে এসব কুকুর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরও পড়ুনঃ কী হবে? যদি একটা এ্যানাকোন্ডা আপনাকে জীবন্ত খেয়ে ফেলে ?

রটউইলার

এই কুকুর প্রচন্ড শক্তিশালী হয়ে থাকে । আবার যেকোন সময় এই কুকুর মানুষকে কামড়ে দেয় । বিভিন্ন ভেড়া এবং ছাগলের ফার্ম কে নানা রকম আক্রমনাত্মক প্রাণী থেকে রক্ষা করতে এসব ফার্মের মালিক এই প্রজাতির কুকুর পালন করে থাকে। এই প্রজাতির কুকুর মাত্র 2-৩ টা মিলে ৫০০ থেকে 600 ভেড়া ছাগল কে রক্ষা করতে পারে। যে ফ্রামে এই প্রজাতির একটি ২টি কুকুর রয়েছে সেই ফার্মের মালিক কে এসব নিয়ে কোনো রকম মাথা ঘামাতে হয় না।

ডোবারম্যান বিলশা

এই প্রজাতির কুকুরগুলোকে পুলিশ নানা রকম কাজে ব্যবহার করে থাকে। সন্দেহভাজন কাউকে দেখলে কুকুর আক্রমণ করে। তবে কুকুরের মালিক কে দেখলে কুকুর শান্ত হয়ে যায়। এ কুকুর শুধুমাত্র পুলিশি নানারকম কাজে ব্যবহার করে থাকে।

বুল্লমাস্টিফ

বুল্লমাস্টিফ আক্রমনাত্মক প্রজাতির একটি কুকুর । এ প্রজাতির কুকুরের পা অন্যান্য প্রজাতির কুকুরের পা থেকে অনেক লম্বা হয়ে থাকে। অবাক করা কথা হল এই প্রজাতির কুকুরের ওজন 59 কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই কুকুরের এক কামড়ে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের হাত পায়ের হাড় গুড়ো হয়ে যেতে পারে।

বিভিন্ন মাংসাশী প্রাণী থেকে ক্ষেত খামারকে রক্ষা করার কাজে এই কুকুর ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই কুকুর এতটা আক্রমনাত্মক হওয়া সত্বেও সঠিকভাবে ট্রেনিং দিলে এর চাইতে প্রভুভক্ত কুকুর পাওয়া অনেক কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।

এই প্রজাতির কুকুরগুলোকে শত শত বছর আগে বিভিন্ন দেশের রাজা মহারাজারা পালন করত। কেননা এই প্রজাতির কুকুর গুলো দেখতে অনেক হালকা পাতলা এবং অনেক ওজন কম মনে হয় । অতীতে রাজা-মহারাজারা যখন শিকারে যেত তখনই এই প্রজাতির কুকুরকে সঙ্গে করে নিয়ে যেত । আর এসব শিকারের কাজে ব্যবহার করা হতো। তবে এসব প্রজাতির কুকুর কে এখন আর খুব বেশি দেখা যায় না।

Leave a Comment