বিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুত ও আজব 5 টি পদার্থ

Terminator Polymer

টার্মিনেটর এই হলিউড মুভি টি দেখেন নিয়ে হয়তো এমন মানুষ নেই। রোবট আর মানুষের মধ্যে যুদ্ধের মাধ্যমে এই ছবিটিতে দেখানো হয়েছে কিভাবে একটি ভেঙে যাওয়া রোবট নিজেকে কি করে আবার তৈরি হয়ে যায়।

এটা থেকেই প্রশ্নের সৃষ্টি হয় যে আসলেই কি আমরা এমন কোন মেটেরিয়াল তৈরি করতে পেরেছি ভেঙে যাওয়ার পরেও আবার একা একাই একজন-আরেকজনের সংস্পর্শে আসতে পারবে। এর উত্তর হলো হ্যাঁ।

Terminator Polymer  তেমনি একটি ম্যাটেরিয়াল যা বিজ্ঞানীরা খুঁজে বের করেছে।

এই ম্যাটেরিয়াল টিকে যদি দুই ভাগে বিভক্ত করা যায় আর আনুমানিক 2 কোনটা স্বাভাবিক রুম টেম্পারেচারে  তাদেরকে একটার সাথে আরেকটা লাগিয়ে রাখা হয় তাহলে সেটা পুনরায় একত্রিত হয়ে যাবে

আর এমন ভাবে লেগে যাবে যেন আপনি কখনো কল্পনাও করতে পারবেন না যে এটা আপনি কখনো দুই ভাগে বিভক্ত করেছিলেন। 

আপনি এটাকে যতটা মন চায় টানতে পারবেন তাও একটা আলাদা হবে না। এই ম্যাটেরিয়ালটি সেল ফিলিং মেথডে বানানো হয়েছে। যা নিজেকে 97 শতাংশ হিল করে পুনরায় একত্রিত করতে পারে।

এই ধরনের টেকনোলজি আমাদের জন্য ভবিষ্যতে অনেক কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে।

আরও পড়ুনঃ বিশ্বের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য পাঁচটি বিল্ডিং

Line X

বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ জিনিস প্লাস্টিক ও নামমাত্র মেটেরিয়াল দিয়ে তৈরি হওয়ার কারণে এইগুলো বেশিদিন টেকসই হয় না। 

Line X এমন একটি প্রোডাক্ট যাক কোন জিনিসকে  অনেক বেশী মজবুত ও টেকসই বানাতে পারে। এটা এমন একটি লিকুইড যা দেওয়ালে স্প্রে করে দিলে সেই দেওয়াল এটম বোম এর আঘাত সহ্য করতে পারবে।

যেখানে সাধারন থার্মোকলের গ্লাস  হাত দিয়ে দুমরে ফেলা যায় সেখানে যদি এই গ্লাসের উপর Line X স্পে করে দেওয়া হয় তাহলে মানুষ এই গ্লাসের উপর দাঁড়িয়ে থাকলেও এটার কিছু হবে না।

যেখানে তরমুজ হালকা আঘাতে ভেঙ্গে যায়  কিন্তু সেই তরমুজের উপর line-x স্প্রে করে দেওয়া হয় তাহলে হয়তো হাতুড়ি দিয়ে মেরেও কেউ এটা ভাঙতে পারবেনা।

সবচেয়ে নমনীয় জিনিস যেমন যা কিনা হালকা আঘাতে ভেঙ্গে যায়।  যদি ডিমের উপর line-x স্প্রে করে দেওয়া হয় তাহলে সেই ডিমকে 50 ফুট উপর থেকে ছেড়ে দিলেও এটা নিচে পড়ে ভাঙবে না।

এই ধরনের মেটেরিয়াল কে এর অসাধারণ শক্তি ক্ষমতা কারো নেই অদ্ভুত বলা হয়।

Non newtonian Fluid

 আপনারা সবাই ফ্ল্যাশ মুভিতে দেখেছেন ফ্লাশ কিভাবে পানির উপরে খুব দ্রুত দৌড়াতে পারে। কিন্তু যদি একজন সাধারণ মানুষ এমন টা করতে চায় তাহলে তাকে প্রতি সেকেন্ডে 30 মিটার পথ অতিক্রম করতে হবে। 

এই দূরত্ব আমরা সাধারণভাবে কখনোই পার করতে পারব না। তবে আমরা এমন লিকুইড বানিয়ে ফেলেছি যেখানে আমরা স্বাভাবিকভাবে দৌড়াতে পারবো।  আপনারা যে লিকুইড দেখতে পাচ্ছেন,  এটা অনেক কনেস্টোরস ও পানি একত্রিত করে বানানো হয়েছে।

এই লিকুইড অনেকাংশেই মাটির মতো আচরণ করে। আর তাই আপনি এটার উপর দিয়ে দৌড়াতে পারবেন।  এটার ওপর এক্সারসাইজ করতে পারবেন। আপনি চাইলে এর উপরে আরো অনেক কিছু করতে পারবেন।

এই লিকুইড এর পানি ভাঙতে অনেক সময় লাগে তাই আমরা এর উপরে হাঁটাচলা করতে পারি। আমরা যদি 10 কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা বেগে এর উপরে দৌড়ায় তাও আমরা ডুববো না।

Fire Extinguisher Ball

এই পৃথিবীতে প্রত্যেক বছর 24 হাজারেরও বেশি লোক মারা যায় শুধু আগুনের কারণে। আর 70 হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয় এই আগুনেরই কারণে। এই কিছুদিন আগে বাংলাদেশের চক বাজারে অগ্নিকাণ্ড ঘটনা তো সবার মনে আছে।

আপনি কি মনে করেন আমরা আগুন নিভানোর জন্য যে টেকনোলজি ব্যবহার করি সেটা যথেষ্ট?  যদি যথেষ্ট হতো তাহলে এর দ্বারা হতাহতের পরিমাণ আজ অনেক কম হতো। এই Fire Extinguisher Ball এটার জন্য হয়তো সবচেয়ে বড় সমাধান হতে পারে। 

এই বল আপনি যদি কোনো জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করেন তাহলে এটা বোম এর মত ফেটে যাবে আর আগুন নিভে যাবে। এই টেকনিক একেবারে বোম টেকনিকের বিরুদ্ধে কাজ করে। 

যেমন একটি বোম ফাটার পর চারদিকে আগুন লাগিয়ে দেয় ঠিক তেমনি এই ভুলটি ফাটার পর চারদিকে আগুন নিভিয়ে দেয়। এই বলটি মানুষের হাতে ফেটে গেলেও কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয় না। 

আপনি একটি ঘরে, রান্নাঘরে, অফিসে, গাড়িতে যেখানে আগুন লাগার সম্ভাবনা রয়েছে সেখানেই রাখতে পারেন।

Starlite

1980 সালে Maurice Ward নামের একজন হেয়ার ড্রেসার স্টারলাইট নামে একটি ম্যাটেরিয়াল বানায়। এই ম্যাটেরিয়ালটি পৃথিবীর সবচেয়ে তাপমাত্রা সহায়ক ম্যাটেরিয়াল ছিল। 

যদি আপনি ডিমে এই ম্যাটেরিয়াল লাগিয়ে দেন আর ডিমে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি তাপমাত্রা পাঁচ মিনিট ধরে দিতে থাকেন তারপরেও ডিমটি আগের মতই থাকবে সেটা ভাঙবে না। 

এই পদার্থটি যে কোন জিনিসকে প্রচুর গরমের হাত থেকে রক্ষা করতে পারে। নাসা ও অনেক বড় বড় কোম্পানি এর ফর্মুলা খোঁজ করছে কিন্তু মরিস এর ফর্মুলা কাউকে দেয়নি।  সে চেয়েছিল যাতে এর ফর্মুলা কেউ জানতে না পারে।

আর তাই Maurice Ward এই পদার্থটির যে নমুনা ল্যাবে পরীক্ষা করার জন্য দিত সেই নমুনা তার চোখের আড়াল হতে দিত না।  কিন্তু 2011 সালে যখন তার মৃত্যু হয়ে যায় তখন তার মৃত্যুর সাথে সাথেই এই ফর্মুলাটি হারিয়ে যায়।

কারণ তিনি একমাত্র ব্যক্তি ছিল যে কিনা এর ফর্মুলা জানতো।  আমার মতে তার উচিত ছিল বিশ্বস্ত আর একজনকে ফর্মুলাটি জানিয়ে রাখা। বিশ্ববাসী অসাধারণ আবিষ্কার থেকে বঞ্চিত হল।

Leave a Comment