এই আজব গাড়িগুলো রাস্তায় বের হলে যে কেউ তাকিয়ে থাকে

দুনিয়াতে অনেক লাক্সারিয়াস এবং হাইটেক গাড়ি রয়েছে। যেসব দেখে যে কারোরই এসব গাড়ি চালাতে মন চাইতে পারে। আজ আমি আপনাদের কিছু আনইউজুয়াল গাড়ি সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি যার সম্পর্কে এর আগে আপনি কখনো শোনেননি।

1. ৮ হুইল কার

সাধারণত গাড়িতে চারটি চাকা থাকে। আর একটি চাকা সাধারণত পেছনে লাগানো থাকে যেন একটি পাঞ্চার হয়ে গেলে তা পরিবর্তন করা যায়। এই যে গাড়িটি আপনারা দেখতে পাচ্ছেন তাতে আটটি চাকা রয়েছে। আসলে এটি একটি Toyota গাড়ি যার সামনের অর্ধেক একদমই নরমাল কিন্তু যার পেছনের দিকে তিনটি করে আনইউজুয়াল ভাবে তিনটি করে চাকা লাগানো রয়েছে। দুইটি চাকা রোডের সাথে লেগে থাকে আরেকটি থাকে সেই দুটি চাকা ঠিক উপরে। এই গাড়িটি যার তিনি একটি ট্যাক্সি কোম্পানির মালিক । তিনি একটি স্পেশাল অটো টিম এর সাহায্যে এই গাড়িটিকে এভাবে মডিফাই করেন। এটি রোডে পারফেক্টলি চলতে পারে এবং এর আটটি চাকাই সমানভাবে ঘোরে। রোড এ এটি যখন চলে তখন স্বাভাবিকভাবেই সবার নজর এর দিকে থাকে।

2. Peel P50

এখন পর্যন্ত আপনারা অনেক লাক্সারিয়াস গাড়ি দেখেছেন। কিন্তু ১৯৬২ সালে তৈরি করা গাড়িটি পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষুদ্রতম গাড়ির মধ্যে এটি একটি। ওই সময়ে এটি খুবই বিখ্যাত গাড়ি ছিল। এর দৈর্ঘ্য মাত্র 53 ইঞ্চি। বিশাল আকারের উৎপাদন করা পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট গাড়ির মধ্যে এটি একটি। এটিতে ছোট ছোট তিনটি টায়ার লাগানো রয়েছে আরেকটি ছোট দরজা এবং একটি মাত্র সিট রয়েছে। এতে কোনো রিভার্স গিয়ার লাগানো হয়নি। যার ফলে এটিকে ঘোরাতে হলে পিছন থেকে উঁচু করে তারপর আপনাকে ঘুরাতে হবে।। ওই সময় এটির মূল্য ছিল মাত্র ২২৫ ডলার। বর্তমানে পৃথিবীতে মাত্র 27 টি এর কপি রয়েছে। শুধুমাত্র ধনী লোকের কাছে এটি পাওয়া যাবে। 2016 সালের একটি অকশনে এরকম একটি গাড়ি এক লাখ 76 হাজার ডলারে বিক্রি হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ লড়াইয়ে সিংহও হার মানে এই কুকুরের কাছে ?

3. উইন্ড এক্সপ্লোরার

দুনিয়াতে অনেক ধরনের গাড়ি রয়েছে যেগুলো চালাতে কোনো না কোনো ধরনের ফুয়েলের প্রয়োজন পড়ে।বর্তমানে বাজারে ইলেকট্টিক গাড়ি চলে এসেছে। যা ব্যাটারি দিয়ে চালানো যায়। আপনি কি কখনো এমন গাড়ি দেখেছেন যা বাতাস দিয়ে চালানো যায়। শুনতে অবাস্তব মনে হলেও এই যে উপরে গাড়িটি দেখতে পাচ্ছেন তা দ্বারা চালানো যায় । জার্মান ইঞ্জিনিয়ারদের তৈরি করা এই গাড়িটি মাত্র 13 ডলার খরচে 3107 কিলোমিটার পাড়ি দিতে সক্ষম। এই গাড়িটি বাতাস থেকে এনার্জি গ্রহণ করতে পারে। বাতাসের কারনে এর ভেতরে থাকা জেনারেটর এনার্জি জেনারেট করে। যার দ্বারা এটি কোন রকম না থেমে গাড়িটি লাগাতার চলে যেতে পারে ।তারা মোট ১৮ দিনে এই দুরুত অতিক্রম করে কোন প্রকার ফুয়েল ছাড়াই।এই গাড়ির মাধ্যমে তারা একটি ওয়ার্ল্ড রেকর্ড তৈরি করেন। গাড়ির ওজন 200 কেজি এবং এটি মাত্র দুজন ব্যক্তিকে বহন করতে সক্ষম। এটি ঘণ্টায় 80 কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে।

4. আপ সাইট ডাউন কার

যে গাড়িটি সম্পকে আপনারা জানতে চলেছেন তা ফোর্ড কোম্পানির F150 মডেলের একটি গাড়ি। আমেরিকার বহু জায়গায় এই গাড়িটি প্রচুর দেখা যায়। 2019 সালে এটি সবচেয়ে বেশি বিক্রিত পিকআপ ট্রাক। আমেরিকার অধিবাসী রিক সেলেমণ এই পিকআপ-ট্রাক টিকে এমন ভাবে মডিফাই করেন যেন দেখে মনে হয় এটি এক্সিডেন্ট করে উলটে গিয়েছে।এটি মডিফাই করতে তিনি ৬ মাস সময় নিয়েছিলেন। তিনি দুইটি গাড়ি নিয়ে কম্বিনেশন এটি বানিয়ে ফেলেন। একটি গাড়ি ছিল ফোর্ড এফ 150 এবং অন্যটি 999 ফোর্ড রেঞ্জার। এই গাড়িটি রোডের নরমাল গাড়ি চলার মত পারমিশন রয়েছে। এই গাড়িতে চারটি চাকা নিচে এবং চারটি চাকা উপরে লাগানো রয়েছে। যখন এটি চলে তখন এর সব গুলো চাকাই ঘুরতে থাকে।

5. বিএমডব্লিউ আশিটা

বিএমডব্লিউ কোম্পানি তাদের গাড়িগুলোর লাক্সারিয়াস এবং উন্নত মানের ডিজাইনের জন্য বিশ্ব বিখ্যাত। ইউনিক লুকের কারণে কয়েক মিটার দূর থেকেই এদের চিনতে পারা যায়। এখন আপনাদের যে গাড়ি সম্পর্কে বলছি তা দেখে কেউ বুঝতেই পারবেন না যে এটি বিএমডব্লিউ কোম্পানির গাড়ি। এ গাড়িটি এতটাই ছোট যে এতে দুইজন লোক খুব কষ্ট করে বসতে হয়। বিএমডব্লিউ কোম্পানি এই গাড়িটির 1950 সালে তৈরি করেছিল। তারা এই গাড়িটিকে 45 টি আলাদা আলাদা রঙের বাজারে প্রকাশ করেছিল এবং গাড়িটি স্ট্যান্ডার্ড থেকে ডিলাক্স মডেলের অনেকগুলো ধরনে বানানো হয়েছিল। মজার ব্যাপার হলো 1950 সাল থেকে 1960 সাল পর্যন্ত এই গাড়িটিকে জার্মানিতে মোটরসাইকেল হিসেবে বিবেচনা করা হতো। এ ডিজাইনের 160000 গাড়ি ম্যানুফ্যাকচার করা হয়েছিল। এই গাড়িগুলোর দরজার সামনের দিকে থাকতো । যা খুলে ড্রাইভার ভিতরে প্রবেশ করত। এর কয়েকটি অনেক ভালো ভালো সুবিধা ছিল । যেমন এই গাড়িটি খুব কম পরিমাণ পেট্রোল লাগতো । আরেকটি হলো এটিকে যেকোনো খুব ছোট জায়গায় সহজে পার্কিং করা যেত। বর্তমানে এটি শুধুমাএ আমেরিকার কালেক্টরদের কাছে দেখতে পাবেন। ছোট হলেও গাড়িটি কিন্তু আসলেই খুবই কিউট।

6. এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল ভেহিকেল

এখন যে গাড়িটি আপনারা দেখতে পাচ্ছেন এটাকে যদি আপনি রাস্তায় চলতে দেখেন তাহলে যে কেউ ভাববেন যে এলিয়েন পৃথিবীতে চলে এসেছে। এই গাড়িটিকে 2012 সালে তৈরি করা হয়েছিল। মাইকেল বেটার নামের একজন ইঞ্জিনিয়ার গাড়িটিকে এইভাবে ডিজাইন করে। গাড়িটিকে এমন লুক দেয়া হয়েছে যাতে করে একে দেখে যে কেউ খুব সহজেই সক খেয়ে যাবেন। যখন গাড়ি রাস্তায় চলতে থাকে তখন এটিকে দেখে বোঝা সম্ভব হয়না যে গাড়িটি কিভাবে চলছে। কারণ এটির চাকা একদমই নজরে আসে না। এটির বডিকে একদমই এলিয়েন স্পেসশিপ এর মতন কভার করা হয়েছে। এই গাড়িটির তিনটি সিট রয়েছে। সামনে দুটি সিট এবং পেছনে একটি। এটির ডিজাইন আসলেই অনেক অদ্ভুত।

7. সি লায়ন

আপনি কি কখনো এমন কোন গাড়ি দেখেছেন যে যা রাস্তা এবং পানিতে উভয় জায়গায় খুব সহজে স্বাচ্ছন্দে চলতে পারে। এমনটা হয়তোবা শুধুমাত্র মুভিতেই দেখেছেন। কিন্তু বাস্তবে এমন একটি গাড়ি রয়েছে যা পানিতে এবং মাটিতে উভয় জায়গায় সমান ভাবে চলতে পারে। এটি এমন একটি ফেন্সি কার যেটিকে 2012 সালে তৈরি করা হয়। এটি তৈরিতে 2 লাখ 60 হাজার ডলার খরচ হয়েছিল। ইঞ্জিনিয়াররা এটিকে এমনভাবে ডিজাইন করেছেন যে এটিকে দেখে মনে হয় এটি একটি স্পোর্টস কার। আর এটিকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যেন মুহূর্তেই নিজেকে পরিবর্তন করে একটি রোবটের মত রাস্তা থেকে চলার পরিবর্তে পানিতে চলার জন্য পরিবর্তিত হতে পারে। এর বডি অ্যালুমিনিয়াম এবং গ্লাস দ্বারা তৈরি করা হয়েছে। মাটিতে এটি ২০৯ কিলোমিটার প্রতি ঘন্ এবং পানিতে 72 কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা বেগে চলতে পারে। সি লায়ন পৃথিবীতে বানানো সবথেকে ইউনিক গাড়ি গুলোর মধ্যে একটি।

8. রেনালট কইড

পৃথিবীর সব দেশেই ট্রাফিক জামের সমস্যা রয়েছে। এই ট্রাফিক জ্যামের সমস্যার কথা মাথায় রেখেই রেনাল্ট কোম্পানি এই গাড়িটি ডিজাইন করেছে। যে গাড়িটি নিয়ে এখন কথা বলছি তা দেখে মনে হতে পারে এটি একটি খেলনা গাড়ি। কিন্তু না, এটি একটি রিয়েল কার। এর সাথে এর সাথে অনেকগুলো অদ্ভুত ফিচার যোগ করে দেয়া হয়েছে । এই গাড়িতে একটি ড্রোন সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। যা ড্রাইভারকে রোড কন্ডিশন সম্পর্কে পূর্ব থেকে সতর্ক করতে পড়ে । যাতে করে ড্রাইভার তার বেস্ট রোড চিহ্নিত করতে পারে। রেনাল্ট কোম্পানি গাড়িটিকে 2014 সালে সবার সামনে প্রকাশ করে। এটি পৃথিবীর প্রথম গাড়ি যাতে সম্পূর্ন অটোমেটিক ড্রোন রয়েছে। ড্রোনটি গাড়িটির ছাদে রয়েছে। এটিকে এক ক্লিকে এক্টিভ করা যায়। এই ড্রোনটি ড্রাইভারকে এরিয়া সার্ভে করে সামনের পরবর্তী রোড সম্পর্কে আগাম তথ্য দিতে পারে। যে সকল অঞ্চলে গুগল ম্যাপ কাজ করেনা সে সকল অঞ্চলেও এই ড্রোনটি খুব ভাবে কাজ করতে পারে। গাড়িটি দেখলে সাইন্স ফিকশন মুভির মত মনে হয়।

9. টেস্কো

যে গাড়িটি নিয়ে এখন কথা বলা হচ্ছে তা একটি প্রোটোটাইপ গাড়ি যা 1947 সালে বানানো হয়েছিল। কোম্পানির এই ডিজাইনটি এমনভাবে ফ্লপ হয়েছিল যে পরবর্তীতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে এই গাড়িটি মেনুফেকচারিং করা হয়নি । পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর একটি আমেরিকান কোম্পানি এই গাড়িটিকে স্পোর্টস কার হিসেবে ম্যানুফ্যাকচার করেছিল । যা ছিল ওই কোম্পানিটির প্রথম গাড়ি। ইঞ্জিনিয়ার গার্ডেন গ্রীন এই গাড়িটিকে ডিজাইন করেছিলেন এবং তিনি ছিলেন এই কোম্পানিটির মালিক। তিনি ভেবেছিলেন এই গাড়িটি পৃথিবীতে রেভুলেশন নিয়ে আসবেন । কিন্তু বাস্তবে এমন কিছুই ঘটেনি। তিনি গাড়িটিকে জেট বিমান অনুকরণ করে ডিজাইন করেছিলেন। কিন্তু এই গাড়িটি কারো কাছে খুব একটা পছন্দ হয়নি। দেখে মনে হয় যেন একটি বাচ্চা গাড়িটিকে ডিজাইন করেছে। এমনকি গাড়িটিতে কোন কিছুই পার্ফেক্ট ছিল না। যার কারণে ডিজাইনটি একদম ফ্লপ হয়ে যায় এবং তার সাথে সাথে তার কোম্পানির দেউলিয়া হয়ে যায়। বর্তমানে এই গাড়িটি আপনি কেবল মিউজিয়ামে দেখতে পাবেন।

Leave a Comment