সেরা কিছু উদ্ভট ডিজাইনের বাইসাইকেল

হ্যালো বন্ধুরা,

টেকনোলজির এই যুগে আমরা চলাচলের জন্য বিভিন্ন ধরনের গতিশীল যানবাহন আবিষ্কার করলেও সাইকেল আমাদের অনেকের দৈনন্দিন ব্যবহৃত একটি বাহন। পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন সব জিনিসপএ। আর সেই গুলোর লিস্ট থেকে সাইকেলও পিছিয়ে নেই। বিশেষজ্ঞরা প্রতিনিয়ত আমাদের দৈনন্দিন ব্যবহৃত যানবাহন গুলোকে নতুন নতুন রুপ দিতে চালিয়ে যাচ্ছেন। এই পোষ্টে আমরা এমন কিছু অদ্ভুত কিছু সাইকেল সম্পর্কে জানব।

Running Bike Shoe

জুলাই 2016 তে রেসিডেনশিয়াল রাইট লন্ডনে এটাকে সর্বপ্রথম প্রদর্শনী করা হয়। এটার সব থেকে আশ্চর্যজনক ব্যাপার হল সাইকেলটি তে কোন টায়ার নেই। বরং টায়ার এর পরিবর্তে এখানে 6 টি জুতা দিয়ে চাকা তৈরি করা হয়েছে। বাইক এর প্রতি চাকায় 6 টি করে, দুই চাকায় মোট 12 টি জুতা ব্যবহার করা হয়েছে। এর থেকেও সবথেকে বড় আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো আপনি বাইকটি কোথাও কিনতে পাবেন না। অর্থাৎ এটি স্পেশালভাবে ডিজাইন করে 1pc তৈরি করা হয়েছিল।

আরও পড়ুনঃ বিশ্বের সব থেকে বড় বিমান

Walking Bike

এটার প্রথম চাকা, ফ্রেম এবং হ্যান্ডেল সবকিছুই সাধারণ বাইসাইকেল গুলোর মতই। কিন্তু বাই সাইকেলের পেছনের অংশ অন্য সাধারন সাইকেলের মতো নয়।সাইকেলের পিছনে চাকার পরিবর্তে এটার প্রস্তুতকারক কিছু মেটালিক আর্ম দিয়ে মাকড়সার পা এর মতো রূপ দিয়েছে। সাইকেলটিতে ৪৫০টি মেটাল এলিমেন্ট এবং ১২০ টির বেশি প্লাস্টিকের এলিমেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। শুধুমাত্র ফ্লার্ট স্পেসে চলা এই বাইক এখন পর্যন্ত মার্কেটে দেখা না গেলেও বেশকিছু এক্সিবিশনে বাইকটি প্রদর্শিত হয়েছে।

Aerovelo Ata

এই সাইকেল পৃথিবীর সবথেকে দ্রুতগতি সম্পন্ন হিউম্যান পাওয়ার্ড বাই সাইকেল বলে ধরা হয়। হাইওয়েতে চলার গাড়ির মতো গতিসম্পন্ন এই সাইকেলের গতি 90 মাইল পার আওয়ার পর্যন্ত পৌঁছায়। ক্যামেরুন রবার্টসনের তৈরিকৃত এ বাইসাইকেল তাদের পূর্বে তৈরিকৃত বাইসাইকেলের সর্বোচ্চ গতির ভেঙে দিয়েছে। 198 ওয়াট কম্পডেল পাওয়ার এটাকে ৫৬ মাইল পার আওয়ার স্পিড প্রদান করে। যা পৃথিবীতে থাকা যেকোনো ট্রান্সপোর্টেশন টেকনোলজি থেকে বেশি স্পিড প্রদান করে। এটা রাইডার এটার মধ্যে শুয়ে বাইক চালায় যাতে বডি প্রেসার পায়ের উপর থেকে কমে যায় এবং স্পীড বাড়াতে সাহায্য করে এবং এর ড্রাইভার রাস্তা দেখার জন্য বাইরে থাকা দুটি ভিডিও ক্যামেরা ব্যবহার করে।

Water Bike

জুডোসেলাই নামক এই ব্যক্তি সর্বপ্রথম এক স্থান থেকে অন্য নিয়ে আসেন। এটা হল একটা হাইব্রিড mountain-bike। যা দুইটি বাতাস ভর্তি টিউব এর সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে। যখন রাইডার প্যাডেল করে,তখন বাইরে থাকা প্রপেলার সাহায্যে বাইকটি ১০ মাইল পার আওয়ার গতিতে চলে। পুরো বাইকটি সর্বমোট 15 মিনিটের মধ্যে সেটআপ করা যায়। এবং মাত্র পাঁচ মিনিটের মধ্যে সবকিছু খুলে প্যাক করা যায়। পুরো বাইকটির ওজন মাত্র 20 পাউন্ড এবং এত হালকা হওয়ার কারণে বাইকটি খুবই সহজে পানিতে ভেসে থাকে।

Ferrari Farfalla FFX

হ্যাঁ আপনি ঠিকই পড়ছেন। গাবড়ানোর প্রয়োজন নেই। কারণ এটা একটা বাইসাইকেল। 2012 সালে তৈরি করা এই বাইসাইকেল টি ১ থেকে ২ জন ড্রাইভার এর মাধ্যমে চালাতে হয়। এটা বাইরে থেকে ফেরারি গাড়ির মতো হলেও এটা সম্পূর্ন ভাবে হিউম্যান পাওয়ার এর মাধ্যমেই চলে। বাই সাইকেলটিতে একটি ১১ স্পিড হাফ গিয়ার বক্স এবং ২০০ আল্টা LED লাইট ব্যবহার করা হয়েছে রাতে পথ চলার জন্য। এটাতে Buildin Butterfly system বিশিষ্ট দরজা রয়েছে যা প্যাডেল করার সাথে সাথে ওঠা নামা করে।

Paravelo Flying Cycle

এটার তৈরিকারক কোম্পানির বাইসাইকেল ডিজাইনের ট্রেন্ড ফলো করতে গিয়ে এটাকে ডিজাইন করেছিল। মাটিতে চলা এই তিন চাকা বিশিষ্ট বাইসাইকেলে একটি টারবাইন, একটি ইঞ্জিন এবং একটি প্যারাগ্লাডিং এর উইং রয়েছে। যা এর রাইডার্স এর পেছনে থাকা ব্যাগের মধ্যে বহন করে। এটার রাইডার নরমাল প্যাডেল এর মাধ্যমে এটাকে মাটিতে চালাতে পারবে এবং পেছনে থাকা ইঞ্জিন ব্যবহার করে এটাকে নিয়ে আকাশে উড়া যাবে এবং এটাকে উড়ানোর জন্য আপনার কোন ধরনের রানওয়ের প্রয়োজন নেই। এর প্যারা গ্লাইডিং ফিচারই আপনার সবকিছু করে দিবে। ৭৪ পাউন্ড ওজনের এই বাইক এক মাইল উচুতে 24 মাইল পার আওয়ার উড়তে পাড়ে। আপনি এটাকে মাত্র চার লক্ষ টাকা দিয়ে কিনেও ফেলতে পারবেন।

Leave a Comment