পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দেশ

বন্ধুরা আপনারা সকলেই জানেন যে পৃথিবীর বৃহত্তম দেশ হল রাশিয়া। কিন্তু বলুনতো পৃথিবীর সব থেকে ছোট দেশ কোনটি ? আপনারা নিশ্চয়ই বলবেন ভ্যাটিকানসিটি তাই না? কিন্তু না, বন্ধুরা আসলে পৃথিবীর সবথেকে ক্ষুদ্রতম দেশটির নাম হলো সিল্যান্ড।

বন্ধুরা ঠিকই শুনেছেন, আসলে বেশিরভাগ মানুষই এই নামটি সম্পর্কে অপরিচিত। কিন্তু খুব কম করে হলেও দেশটির বয়স 53 বছর। এবার খুব অবাক হচ্ছেন তাই না। আমাদের আজকের এই পোস্টটে আমরা এই দেশ সম্পর্কে আলোচনা করব।

সিল্যান্ড

সিল্যান্ড সম্পর্কে আপনারা যতই শুনবেন ততই অবাক হবেন। ইংল্যান্ডের Sufflok উপকূল থেকে প্রায় 12 কিলোমিটার দূরে গভীর উত্তর সাগরে অবস্থিত ফিল্যান্ড বা প্রিন্সিপালিটি অফ সিল্যান্ড। যা একটি মাইক্রো নেশন। যার আয়তন প্রায় 4 হাজার বর্গমিটার। শুনলে অবাক হবেন যে এই দেশটির মোট জনসংখ্যা মাত্র 27 জন। সবার আগে দেশটির ইতিহাস সম্পর্কে বিশেষ কিছু তথ্য জেনে নেওয়া য।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন গ্রেট ব্রিটেন জার্মানি কে নৌপথে পরাস্ত করার জন্য উত্তর সাগরে বেশকিছু দুর্গ তৈরি করেছিল। এদের একসাথে বলা হত Manusell Forts। 1943 সালে তৈরি এই দুর্গ গুলোর মধ্যে অন্যতম হলো Roughs Tower। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর অনেক বছর এটা খালি ও ভগ্ন অবস্তাই ছিল। কিন্তু 1967 সালের এক ব্রিটিশ ভদ্রলোক Paddy Roy Bates এটি অধিকার করে নেন এবং দুর্গটিকে নিজের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।

আরও পড়ুনঃ বিশ্বের সবচেয়ে বড় ৬ টি প্রাণী

এটি আসলে গভীর সমুদ্র থেকে 60 ফুট উপরে দুটি পাকা কংক্রিটের স্তম্ভের উপর তৈরি একটি ডেক বা পাটাতন। তিনি সত্যিই এক অদ্ভুত মানুষ ছিলেন। তিনি শুধু এটিকে একটি দেশ বলে দাবি জানিয়েছেন তাই নয়, তিনি নিজে একটি সংবিধান রচনা করেন এবং একটি পতাকা উত্তোলন করেন। আর তার সঙ্গে তিনি নিজেকে সিল্যান্ড এর আইনসম্মত শাসক বলে দাবি করেন। শুধু সংবিধান বা পতাকাই নয় তিনি জাতীয় সংগীত, পাসপোর্ট, মুদ্রা, ডাক টিকিট, জাতীয় ক্রীড়া দল এমনকি একটি অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বানিয়েছে।

সিল্যান্ড একসাথে খুব কম মানুষই বসবাস করেন। কিন্তু শত্রুপক্ষের আক্রমণের থেকে বাঁচাতে সিল্যান্ডে সবসময়ই কেউ না কেউ থাকেন। বন্ধুরা আপনারা অনেকেই হয়তো অনু রাষ্ট্র কথা শুনে থাকবেন। এগুলো সাধারণত খুব ছোটো অঞ্চল। যেগুলোকে কেউ কেউ স্বাধীন দেশ বলে দাবি করেন। কখনো কখনো এর পিছনে কোন যুক্তিসংগত কারণ থাকে না। সিল্যান্ডে এর মধ্যে অন্যতম। আপনারা শুনলে অবাক হবেন যে এটা পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র দেশ, যেখানে কোন মাটি নেই।

আরো অদ্ভুত ব্যাপার হলো এখানে একটি মাত্র বাড়ি আছে এবং সেটা হলো এই দেশের শাসক এর বাড়ি। বন্ধুরা সিল্যান্ড অত্যন্ত অদ্ভুত একটি জায়গা। এর সম্পর্কে আপনারা যতই দেখবেন ততই অবাক হবেন। দেশটি এত ছোট হলেও সিল্যান্ডকে একটি দেশের মর্যাদা দিতে Paddy Roy Bates কে অনেক লড়াই করতে হয়েছিল।

60 দশকের প্রথমভাগে তিনি আসলে ব্রিটিশ সেনা দলের একজন মেজর ছিলেন। প্রথমে তিনি knock john এ একটি রেডিও স্টেশন প্রতিষ্ঠিত করেন। যার নাম ছিল Radio Essex। সেই সময়ে এই ধরনের রেডিও স্টেশন প্রতিষ্ঠিত করা নীতিবিরুদ্ধ কাজ ছিল। তাই একে পাইরেট রেজিস্ট্রেশন বলা হতো। যদি এই রেডিও স্টেশনটি ব্রিটিশ নাগরিকদের কাছে খুবই উপভোগ্য ছিল।

কেননা ওই সময় এই রেডিও স্টেশনে পপ সংগীত ও বিভিন্ন মজাদার অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হতো আর সেগুলো সেই সময় BBC করতো না। কিন্তু তিনি তার কাজ ও দুর্গতি অবস্থান নিয়ে আমেরিকা, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে পড়েন। কেননা এই Knock john দুর্গটি আসলে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে ছিল। তা সত্ত্বেও তিনি দমে যাননি। তিনি আমেরিকার অধিকৃত অঞ্চল থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে সরে Roughs Tower দূর্গে তার রেডিও স্টেশন কে স্থানান্তরিত করেন। এবার আপনি আগের ভুলটা করেননি। উকিলের পরামর্শ নিয়ে অনেকটা প্রস্তুত হয়েই তিনি সমুদ্র দুর্গটিকে সিল্যান্ড নামে নিজস্ব স্বাধীন দেশ বলে ঘোষণা করেন।

1967 সালের দোসরা সেপ্টেম্বর নিজের পরিবার, বন্ধু-বান্ধ্‌ অনুগামীদের নিয়ে তিনি প্রিন্সিপালিটি অফ সিলান্ড এর কথা ঘোষণা করে নিজের তৈরি পতাকা উত্তোলন করেন। কিন্তু সবকিছু এত সহজে মিটে যায় নি। কেননা অন্যান্যদের দুর্গের মত ব্রিটিশ সরকার Roughs Tower দূর্গটিকে বোম মেরে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল। কিন্তু আমেরিকার মধ্যস্থতায় তা সম্ভব হয়নি। এরপর জার্মানি সিল্যান্ড আক্রমণ করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু Bates এর উপস্থিত বুদ্ধি ও সাহস তা হতে দেয়নি। আসলে সিল্যান্ড উওর সাগরের এমন একটি জায়গায় অবস্থিত যেখানে অন্য কোনো দেশেরই কোন অধিকার নেই। আর তাই সকলে এদিকে এখনো পর্যন্ত স্বাধীন দেশের মর্যাদা না দিলেও এর অস্তিত্ব অস্বীকার করতে পারে না।

যাইহোক ইতিহাস ছেড়ে আবার বর্তমানে ফিরে আসা যাক। আপনারা নিশ্চয়ই ভাবছেন এই টেনিস কোর্টের মত ছোট দেশে মানুষ কিভাবে থাকে। আপনাদের জানিয়ে রাখি বন্ধুরা ব্রিটিশরা এই Roughs Tower টি তৈরি করার সময় এখানে থাকার ব্যবস্থা করেছিল। এমন কি কংক্রিটের তৈরি এই ফাপা স্তম্ভ গুলোতেও থাকার ব্যবস্থা আছে। বাইরে থেকে দেখে বোঝা না গেলেও এখানে বসবাসের উপযোগী সমস্ত কিছুই আছে। আর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সবকিছুই আমদানি করা হয় ইংল্যান্ডের Essex শহর থেকে। আরেকটা কথা আপনাদের জানিয়ে রাখি, সিল্যান্ড এর নিজস্ব মুদ্রা সিল্যান্ড ডলার থাকলেও, পৃথিবীর অন্য কোন দেশের এর কোন গুরুত্ব নেই।

Leave a Comment