গন্ডার যখন ক্রাশ?

গন্ডার সম্পর্কে এমন কিছু তথ্য যা আপনারা জানেন না।

গন্ডার হাতির পরে সবচেয়ে বড় স্তন্যপায়ী প্রাণী। গন্ডারের পাঁচটি প্রজাতি এ পৃথিবীতে পাওয়া যায়। যাদের মধ্যে তিনটি দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকায় পাওয়া যায়

তবে লাগাতার শিকার হওয়ার কারণে বর্তমানে এরা বিলুপ্তির পথে। আজ আমি আপনাদের গন্ডার সম্পর্কে এমন কিছু  আজব ও মজাদার তথ্য দিব যা দেখে আপনারা অবাক হয়ে যাবেন।

গন্ডার কে ইংরেজিতে রাইনো বলা হয়।  গন্ডার উচ্চতা 6 ফুট পর্যন্ত হতে পারে আর লম্বায় 11 ফুট পর্যন্ত হয়। গন্ডার  ওজনে 2000 কিলোগ্রাম থেকে ২৭00 কিলোগ্রাম পর্যন্ত হতে পারে।

ভারতে একটি গন্ডারের ওজন 3700 কিলোগ্রাম পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে গন্ডারের যে পাঁচটি প্রজাতি পাওয়া যায় তাদের নাম সাদা গন্ডার,কালা গন্ডার, ভারতীয় গন্ডার, আর সুমাত্রান গন্ডার।

অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানানো হয় যে  পৃথিবীতে এই কিছুদিন আগে 2018 তে সাদা গন্ডার সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।  প্রথম দুই ধরনের গন্ডার আফ্রিকায় পাওয়া যায়।

আর পরের তিন ধরনের গন্ডার দক্ষিণ এশিয়ায় পাওয়া যায়। আফ্রিকায় পাওয়া সাদা গন্ডার সম্পূর্ণ সাদা হয় না এদের শরীরের রং খানিকটা বাদামী হয়ে থাকে। 

আরও পড়ুনঃ বিশ্বের সবচেয়ে অদ্ভুত ও আজব 5 টি প্রাণী

কাল গন্ডারের তুলনায় এদের মুখ বেশি চওড়া হয়ে থাকে। ভারতীয় গন্ডার বিশেষ করে আসামের একটি পার্কে পাওয়া যায় এদের সংখ্যা আনুমানিক ২৪০০ কাছাকাছি।  আসাম ছাড়াও ভারতীয় গন্ডার পশ্চিমবাংলা, উত্তর প্রদেশ আর হিমালয়ের নিম্ন পাহাড়েও এদের পাওয়া যায়। 

ভারতের বাইরে ভারতীয় গন্ডার বার্মা নেপাল ও চীনের কিছু অংশে পাওয়া যায়। ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে পাওয়া যায়ান গন্ডারে আনুমানিক 50 টি জীবিত রয়েছে।  এদের দেখলে মনে হয় এদের শরীর প্লেট দিয়ে ঢেকে দেওয়া  হয়েছে।

সুমাত্রান গন্ডার ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে পাওয়া যায়। এরাও আনুমানিক ২০০ টির মতো জীবিত আছে।  এদের চামড়া অনেক মোটা হয় কিন্তু এরা অনেক নরম হওয়ায়  সূর্যের আলোয় এদের সমস্যা হয়। নিজের চামড়াকে সুরক্ষিত রাখার জন্য এরা এদের শরীরে কাদা মেখে নেয়।

এতে সূর্যের রশ্মি থেকে রক্ষা পেতে  পারে এমনকি পোকামাকড়ের হাত থেকেও কাদাযুক্ত পানিতে গোসল করতে এরা খুব পছন্দ করে।

গন্ডার তৃণভোজী জীব।পাতা, শাক সবজি ও ডালপালা খেয়ে এরা ক্ষুধা নিবারন করে। গন্ডারের মুখের উপর শিং রয়েছে সেটা আসলেই শিং নয়।  এটা আসলে তাদের চুলের গোছা। যা কিনা অনেক শক্ত। মানুষের নখ যে পদার্থ দিয়ে তৈরি গন্ডারের চুল সেই একই পদার্থ দিয়ে তৈরি।

এদের শিং একবার ভেঙে গেলে সেটা আবার পুনরায় বৃদ্ধি পায়। গন্ডারের 5 টি প্রজাতির মধ্যে ভারতীয় ও যায়ান গন্ডারের একটি করে শিং আর সাদা,কালো, সুমাত্রা গন্ডারের দুইটি করে শিং হয়।

এ পর্যন্ত গন্ডারের সবচেয়ে লম্বা শিং 4 ফুট 9 ইঞ্চি পর্যন্ত মাপা হয়েছে। গন্ডার 50 থেকে 55 কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা বেগে দৌড়াতে পারে।

এই জীবটির চোখের জ্যোতি অতটা ভালো হয়না। তবে গন্ডারের ঘ্রান নেওয়ার ক্ষমতা ও শোনার ক্ষমতা অনেক বেশি। গন্ডারের ঝাককে ইংরেজিতে ক্রাশ বলা হয়।

কালো গন্ডার সব সময় একে অপরের সাথে লড়াই করতে থাকে।  50% নর আর ৩০% মহিলা গন্ডারের মৃত্যু নিজেদের মধ্যে লড়াই এর কারনে হয়।

গন্ডারের সম্পর্কে একটি অবাক করা কথা হল যদি শিকারি তাকে গুলি করে তাহলে এরা অন্য প্রাণীদের মতো শুয়ে মৃত্যুবরণ করে না এরা বসে বসে মারা যায়। 

আপনি দেখে মনে করবেন এরা ঘুমাচ্ছে। মাতৃ গন্ডারের গর্ভকাল 14 থেকে 18 মাস পর্যন্ত হয়ে থাকে দুই থেকে চার বছর পর বাচ্চা গন্ডার তার মায়ের সাথে থাকা ছেড়ে দেয়।

একটি গন্ডার  একবারে একটি বাচ্চার জন্ম দেয়। জন্মের সময় গন্ডারের মাথার উপর শিং থাকে না। বয়স বাড়ার সাথে সাথে তাদের শরীরের ওপর শিং বৃদ্ধি পায়। গন্ডারের গড় আয়ু 40 থেকে 50 বছর।

Leave a Comment