এই বিশ্ব রেকর্ড গুলো কেউ ভাঙতে পারবে না

Guinness Book of world Record এর নাম আমরা সবাই শুনেছি। এই বইটিকে Record এর বাইবেলও বলা হয়। পৃথিবীর প্রায় সব অদ্ভুত, অসাধারন এবং চমৎকার সব Record এই বইটিতে লেখা আছে। আজ আমরা কথা বলতে যাচ্ছি গিনিস বুক অফ ওয়াল্ড রেকর্ডস এর এমন ৫টি চমৎকার এবং অসাধারণ রিপোট নিয়ে। যে গুলো সম্পর্কে জানার পর হয়তো আপনি অবাক না হয়ে পারবেন না। আমি হলফ করে বলতে পারি মানুষ যে তার বুদ্ধি এবং সাহসে সবটুকু দিয়ে এত দারুন সব রেকর্ড তৈরি করতে পারে, আপনি আগে কখনো জানতাম না।

৫. গায়ে আগুন লাগিয়ে ঘোড়া দিয়ে মানুষ টানা

অস্ট্রেলিয়ার একটি লোক আগুন নিয়ে খেলতে ভালোবাসেন। লোকটির নাম হল জোসেফ টড। এর আগেও আগুন নিয়ে বিভিন্ন খেলায় গিনেস বুকে রেকর্ড করেছিলেন। কিন্তু এবার তিনি যা করেছেন তা সত্যি অবিশ্বাস্য। তিনি নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে তার শরীরকে একটি ঘোড়ার সাথে বেঁধে দিয়েছিলেন। আর সেই ঘোড়া তাকে মাটিতে শুইয়ে প্রায় ৫০০ মিটার নিয়ে যায়। ঘোড়া দৌড়ানোর গতিও ছিল অনেক বেশি।

ঘোড়াটি প্রায় 35 কিলোমিটার প্রতি ঘন্টায় দৌড়াচ্ছিল।যা সাধারণ একটি মোটর বাইকের হয়ে থাকে। জোসেফ এই খেলাটি খুব ভালোভাবে সম্পূর্ন করেন। আগুন লাগার পরেও তার গায়ের কোনো ক্ষতি হয়নি।তিনি অক্ষত ভাবে খেলাটি শেষ করেছিলেন এবং তার নাম Guinness Book of world লিখিয়েছিলেন ।

আরও পড়ুনঃ সেরা কিছু উদ্ভট ডিজাইনের বাইসাইকেল

৪. প্যারাসুট ছাড়া আকাশ থেকে লাফ দেওয়া

Sky Driving বা আকাশ থেকে প্যারাসুট নিয়ে লাফ দেওয়া খুবই জনপ্রিয় একটি খেলা। একটি প্লেন হয়তো আপনাকে নিয়ে ২০ থেকে ৩০ হাজার ফুট উপরে উঠবে। আর আপনাকে প্যারাসুট নিয়ে লাফ দিতে হবে। কিন্তু আমি যদি বলি, প্যারাসুট ছাড়াই আপনাকে ২০ হাজার ফুট উপর থেকে লাফ দিতে হবে? তাহলে কি আপনি ভয় পেয়ে যাবেন? ভয় পাওয়ার কথা কিন্তু আমেরিকার লুক একিং নামের এক Sky Driver এর হয়তো বিন্দুমাএ নেই।

তিনি Sky Driving এর সবচেয়ে বেশি উচ্চতা থেকে কোন প্যারাসুট ছাড়াই লাফ দিয়েছিলেন। তিনি মূলত Guinness Book of world এ নাম লেখাতে এই ভয়ংকর কাজটি করেছিলেন।লুক ল্যান্ডিং এর জন্য ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফাকা জায়গা বেছে নেন। সেখানে একটি ৩০x৩০ মিটার বিশাল জাল তার ল্যান্ডিংয়ের জন্য তৈরি করেছিলেন। লুক অবিশ্বাস ভাবেই সেই জালের উপর ল্যান্ডিং করেন এবং শরীরে কোনো রকম ক্ষতি ছাড়াই গিনিস বুক ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এ তার নাম তুলে নিয়েছিলেন।

৩. দুঃসাহসী স্ল্যাক লাইনারস

স্ল্যাক লাইন হচ্ছে এক ধরনের শক্ত দড়ির রাস্তা। যা উঁচু পাহাড়ের মাঝখানে বানানো হয়। আর যারা এই চিকন দড়ির উপর দিয়ে হাটেন তাদেরকে বলা হয় স্ল্যাক লাইনস। এখনকার সময়ে অনেকেই এসব চিকন দড়ির উপর দিয়ে হাঁটার চ্যালেঞ্জ নিতে পছন্দ করেন। কিন্তু ট্যাবলো রাফায়েল এবং কুড়ি নামের এই স্ল্যাক লাইনার তাদের সাহসীর সর্বোচ্চ দিয়ে গিনিস বুক অফ ওয়ার্ল্ড এর নাম করে নিয়েছিলেন। তারা অসাধারণ এক স্ল্যাক লাইনের উপর হেটেছেন কিন্তু তাদের হাঁটার জন্য যে চিকন দড়ি ছিল তার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে তিন হাজার মিটার উচ্চতায়। একবার কল্পনা করতে পারেন, প্রিয় বন্ধুরা এই উচ্চতা ঠিক কতটা হতে পারবে? এই উচ্চতায় সাধারণত একটি ঈগলও যেতে পারেনা। আর তিন বন্ধু মিলে এত উচ্চতায় ব্যালেন্স করে হেটে গিয়েছে।

এত উপরে শুধুমাত্র উচ্চতার ভয়ই নয় বরং এই দড়ির উপর দিয়ে হাঁটার সময় তাদের আরও নানান সমস্যা পোহাতে হয়েছে। এত উপরে প্রচন্ড জোরে বাতাস বইতে থাকে। এই প্রচন্ড বাতাসে তার মরে যেতে পারতো। আবার এতো উপরে অক্সিজেনেরও খুব অভাব। যার কারণে তারা অজ্ঞান হয়ে যেতে পারত কিন্তু এত সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে তারা ঠিক ঠিক ভাবেই দড়ি পার হতে পেরেছিল। যার কারণে তাদের নাম গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এর লেখা হয়েছে।

২. সবচেয়ে বেশি সময় নিঃশ্বাস ধরে রাখা

আমাদের মত সাধারন মানুষ সর্বনিম্ন এক মিনিট থেকে পাঁচ মিনিট পর্যন্ত নিঃশ্বাস না নিয়ে থাকতে পারে । যারা ডুবুরি তারা সর্বোচ্চ 9 মিনিট পর্যন্ত পানির নিচে শ্বাস না নিয়ে থাকতে পারে। এর চেয়ে বেশি শ্বাস না নিয়ে থাকা প্রায় অসম্ভব ব্যাপার। কারণ আমাদের শরীরে অক্সিজেনের প্রয়োজন। যা আমরা এই নিঃশ্বাসের মাধ্যমে নিয়ে থাকি। এখন আমরা যার সম্পর্কে জানতে যাচ্ছি তার নাম এলেক্স সেগুরা। এলেক্স স্পেনের নাগরিক। এই মানুষটির নাম আমাদের লিস্টে থাকার কারণ তিনি প্রায় 24 মিনিট পর্যন্ত নিঃশ্বাস ধরে রাখতে পারেন। অর্থাৎ আমরা যেখানে দুই মিনিট নিঃশ্বাস না নিয়েই হাসফাস করি সেখানে এলেক্স টানা 24 মিনিট পর্যন্ত নিঃশ্বাস না নিয়ে দিব্বি থাকতে পারেন। তিনি ২৪ ফেব্রুয়ারি 2016 সালে এই রেকর্ডটি করেন। তিনি একটি শুইমিং পুলে ২৪ মিনিট ৩ সেকেন্ড নিঃশ্বাস না নিয়েই থেকেছিলেন। এলেক্স ছোটবেলা থেকেই এমন সব ব্যায়াম করেছেন যেন তার ফুসফুস বড় হয়ে যায়। বড় ফুসফুসের সাথে সে বেশি অক্সিজেন গ্রহণ করতে পারে। যার কারণে এখন এলেক্সকে বেশি নিঃশ্বাসও নিতে হয় না। তিনি চাইলে 24 মিনিটের মত নিঃশ্বাস বন্ধ করে পানিতে ডুবেই থাকতে পারেন।প্রিয় বন্দুরা, আপনি আপনার নিঃশ্বাস কতক্ষণ ধরে রাখতে পারেন তা আমাদেরকে কমেন্ট করে অবশ্যই জানাবেন।

১. মুখ দিয়ে সুচে সুতা লাগানো

আপনাকে যদি বলা হয় এক চোখ দিয়ে দেখে সুচে সুতা লাগাতে আপনি হয়তো পারবেন না। কিন্তু এখন আমি যার সাথে আপনাকে পরিচয় করিয়ে দিতে যাচ্ছি। তিনি সুচ না দেখে এমনকি হাত ব্যবহার না করেই সুচে সুতা লাগাতে পারেন। প্রিয় বন্দুরা পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি চীনের নাগরিক ওয়াং এর সাথে। তিনি না দেখেই সুচে সুতা লাগাতে পারে। এটা না হয় তাও মানা যায়। কিন্তু আমি যদি বলি এই ব্যক্তি হাত ছাড়াই সুচে সুতা লাগাতে পাড়ে, তাহলে আপনি কি বিশ্বাস করবেন? ওয়াং সুচে সুতা লাগাতে হাত ব্যবহার করেন না। মুখ দিয়েই লাগিয়ে ফেলেন। চাইনিজ একটি শো তে ওয়াং কে আনা হয়। তার অসম্ভব পারদর্শিতা দেখানোর জন্য।

এটি এক মিটার লম্বা কাঠি সারিবদ্ধ ভাবে অনেক সুচ রাখা ছিল। ওয়াং কে সেই সুচ সহ কাঠটি দেওয়া হয়। ওয়াং মুখ দিয়ে একটি লাল সুতা টেনে নেন। আর মাত্র 60 সেকেন্ডের মধ্যে 44 টি সুচে সুতা লাগিয়ে ফেলেন। মুখ দিয়ে সুচে সুতা লাগানোর সময় তিনি একবারের জন্যও সুচ গুলোর দিকে দেখেননি। অসাধারণ প্রতিভাবান এই ব্যক্তি কিভাবে এই অসাধ্য সাধন করলেন তা সৃষ্টিকর্তাই ছাড়া কেউ জানেন না। ওয়াং এর এই রেকর্ডটি সাথে সাথেই Guinness Book of world এ তুলে নেয়া হয়।

Leave a Comment