পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় গর্ত

হ্যালো বন্ধুরা আমাদের পৃথিবীতে মাঝেমধ্যে এমন কিছু ভয়াবহ ঘটনা ঘটে যা হলিউডের হরর মুভি তো দেখা যায় না। যেগুলো হয় একেবারে ব্যাখ্যাতীত এবং ভয়ংকর।

solikamsk hole

এই শৃংহোলটি রাশিয়াযর সলিকাল শহরে অবস্থিত। যে শহরটা বছরের প্রায় সব সময় এভাবে তুষার দিয়ে আবৃত থাকে। 2014 সালে রাশিয়ায় একদল কর্মী সল্টমায়িন করার সময় এই শৃংখল দেখতে পায়। শৃংহোলটি দেখে তারা বিস্মিত হয়ে যায়। তারা ভাবতে থাকে এটা আসলে কি কিভাবে তৈরি হয়েছে?

স্থানীয়রা ওরা কেউ কেউ বলে এখানে বিভিন্ন সময়ে মিসাইল টেস্ট করা হয়েছে। আবার কারো কারো মতে এখানে পরীদের আনাগোনা রয়েছে। এই গভীর শৃংহোলের মাটি সব জুড় জুড়ে । তার পরেও একটি বিশাল ভূমিকম্প হওয়ার সত্তেও শৃংখল এর হাত থেকে স্থানীয়রা বেঁচে যায়। স্থানীয়দের কোন বসতভিটা তেমন কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

এক সময়ে শৃংহোলের সবচাইতে কাছের বাড়িটি ছিল দুই কিলোমিটার দূরে। 2015 সালের শেষের দিকে স্থানীয়রা বুঝতে পারে এই গর্তটি আশেপাশের সমস্ত মাটি নিয়ে ধসে পড়তে চলেছে। আর সেই সময় শৃংহোলটি আশেপাশের অনেকবারই নিয়ে ধসেও পরে ছিল। এই গর্তটির গভীরতা 1৫০ মিটার । স্বাভাবিকভাবে কোন মানুষ এরকম ভয়াবহ শৃংহোল এর আশেপাশে তাদের বাড়ি করতে চাইবে না। কিন্তু তারপরও দেখুন কত মানুষ এই শৃংখলটির আশেপাশে বাড়ি তৈরি করে ফেলেছে।

আরও পড়ুনঃ একটু বেশীই স্মার্ট সাজতে গিয়েছিলো?

Mirny mine

কি হবে আপনি যদি একটি ডায়মন্ডের স্তুপ দেখতে পান । অবশ্যই আপনি সেটা খুড়তে থাকবেন যতক্ষণ না ডায়মন্ড পাওয়া যায়। এই গর্তটির সাথে ও ঠিক তেমনি হয়েছিল। 525 মিটার গভীর এবং 12শ মিটার প্রস্থ বিশিষ্ট এ ডায়মন্ড মাইনটি রাশিয়ায় অবস্থিত। এই ডায়মন্ড রিজার্ভ 1955 সালে আবিষ্কৃত হয়েছিল। আর এই ডায়মন্ড রিজার্ভ এক হাজার 1957 সাল থেকে 2001 সাল পর্যন্ত রাশিয়ানরা খুড়ে গিয়েছে।

2009 সালে এখানে আবার খননকার্য চালানো হয়। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞরা বলেন এই গর্তটির খুব কাছ দিয়ে যদি কোন বিমান যাতায়াত করতে শুরু করে তবে এটি সেই হেলিকপ্টার বিমানকে গর্তের ভেতরে টেনে নিচে নামিয়ে আনতে পারে।

Dead sea sinkhole

ডেড সি পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম একটি টুরিস্ট স্পর্ট । আপনি ডেড সি তে গিয়ে সহজেই এর পানিতে গা ভাসিয়ে ভেসে থাকতে পারবেন। কোনো রকম সাঁতরানোর প্রয়োজন হবেনা যা পৃথিবীর কাছে একটি বিশ্বয়। যদিও বিজ্ঞান এমনটা হওয়ার ব্যাখ্যা দিয়েছে আর তা হলো ডেট সি পানিতে লবণের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। আর তাই স্বাভাবিকভাবেই যে কেউ এই পানিতে ভেসে থাকতে পারে। দেরিতে হলেও এই ডেড সি আরেকটি কারণে জনপ্রিয় ট্যুরিস্ট স্পট হতে চলেছে আর তাহলো ডেড সি এর আশেপাশে এরকম অসংখ্য শৃংখল দেখা দিয়েছে।

এই সকল শৃংখল থেকে উত্তোলিত পানি একদমই ফ্রেশ। তবে বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞদের কাছে এই শৃংখল বড় একটি ভয়াবহ ঘটনার ওয়ার্নিং দিয়ে চলেছে। একবার ভেবে দেখুন এ শৃংখল গুলোর পাশে রয়েছে ডেড সি ।হঠাৎ করেই এই শৃংখল গুলো সবকিছু নিয়ে ধষে পরার সক্ষমতা রাখে। ইতিমধ্যেই ডেট সি পানির লেভেল কমতে শুরু করেছে। এক সময়ে ডেড সি 450 মিলিয়ন গ্যালন পানি সরবরাহ করতো । আর এখন ডেড সি মাত্র 90 মিলিয়ান গ্যালন পানি সরবরাহ করে থাকে। একবার কল্পনা করে দেখুন এই অ্যামাজন ট্যুরিস্ট স্পট টি কি ভয়াবহ হুমকির মুখে রয়েছে।

Monticello dam hole

এই জায়গাটিতে দেখে আপনাদের হয়তো মনে হবে এই জায়গাটিকে কোন সাইন্স ফিকশন মুভিতে দেখেছেন। এটা কোন হলিউড মুভি থেকে নেওয়া দৃশ্য নয় । তবে এটা কোন প্রাকৃতিক ভাবে তৈরি হওয়া গর্ত নয়। এটা একটি ম্যানমেড কনস্ট্রাকশন । ৭ Largest কনস্ট্রাকশন এর মধ্যে অন্যতম একটি man-made কনস্ট্রাকশন । এই ম্যানমেড কনস্ট্রাকশন আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়া অবস্থিত। দেখুন কি ভয়াবহ ভাবে পানির গভীরে চলে যাচ্ছে। এটি তৈরি করার উদ্দেশ্য ছিল আর্টিফিশিয়াল লেক এর পানি সরবারহ করা। যেটা একটা মাউন্টেন এরিয়া।

ডারভাজাওইয়েল

এটিকে অনেকে দোযোকের দরজা বলে মনে করেন । এটাকে দেখে অনেকটা দোযোকের দরজা বলে মনে হতে পারে। এটা দেখতে এমন যে কারোরই মনে হবে যে এটা আন্ডারগ্রাউন্ডের কোন ভয়াবহ জগতে প্রবেশ করার মত একটি দরজা। এই গর্তের আশেপাশে যে গ্রামগুলো রয়েছে সেই গ্রামের বাসিন্দারা এটাকে ট্রুডো নামে ডাকে।

এই গর্তটি তুর্কেমেনিস্তানের কালাকান্দ ডেজার্ট অবস্থিত। এই গর্তটি কে পৃথিবীর সবথেকে বড় গ্যাস রিজার্ভ স্টোর বলা হয়ে থাকে। সব সময় এর মধ্যে দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে থাকে । গর্তটির প্রস্থ 60 মিটার এবং এর গভীরতা 20 মিটার । আপনি কোনোভাবেই এই গর্তটির আশেপাশেও বাস করতে চাইবেন না।

কিন্তু এই গর্তটির চারপাশে গড়ে উঠেছে অনেক গ্রাম। এখন এটাকে কোনোভাবেই বন্ধ করাও সম্ভব না । 1971 সালের দিকে অনেকেই এখানে পরীক্ষা চালিয়েছে। কারণ তারা ভেবেছিল এখানে হয়তো তেলের খনি পাওয়া যেতে পারে । কিন্তু গর্ত খুঁড়তে গিয়ে তাদের মেশিনগুলো উত্তাপে গলে যায়।

Gigantic sinkhole

এটি জাপানের অবস্থিত । একটি সাবলাইন কনস্ট্রাকশনের সময় আচমকাই গর্তের সৃষ্টি হয় । শৃংখল টি লম্বায় 30 মিটার এবং প্রস্থ 27 মিটার এবং গভীরতা ছিল 15 মিটার । শৃংখল টি সৃষ্টি হওয়ায় আশে পাশের বিল্ডিং গুলো হুমকির মুখে পড়ে যায়। শৃংখলটির পাশেই ছিল একটি গ্যাস লাইন । যা বিস্ফোরণ ঘটায় সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও সৌভাগ্যবশত বিস্ফোরণটি ঘটে ছিল না।

Guatemalan sinkhole

বন্ধুরা আপনারা যদি সকালে ঘুম থেকে উঠার পর জানালা দিয়ে তাকে এই ধরনের বিশাল গর্ত দেখতে পান এবং সেটা আপনার বাসার সামনেই তাহলে আপনার কেমন লাগবে ? হ্যাঁ 2010 সালে মস্ট পপুলার গুয়েতেমালার এই সিটিতে দুটি ন্যাচারাল ডিজাস্টার একসাথে আঘাত হেনেছিল । তার মধ্যে একটি ছিল ট্রপিক্যাল আঘাত এবং অন্যটি ছিল আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ বিস্ফোরণ । এই সিটিতে প্রথম আঘাত হেনেছিল আঘাতা নামক একটি ঝড় । যাতে এই শহরের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।

এবং ঠিক তার পরেই এই জ্বালামুখ বিস্ফোরিত হয় । এই শহরের মানুষের এই দুইটি ন্যাচারাল ডিজাস্টার মোকাবেলা করার কোনো পূর্ব প্রস্তুতি ছিল না। আর এই দুইটি ন্যাচারাল ডিজাস্টার এর কারনে অনেক মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছিল। এই জ্বালামুখ বিস্ফোরণে একটি শৃংখল তৈরি হয়। আর এটি অনেকের বাড়ি গর্তের মধ্যে টেনে নেয়।

Leave a Comment