ছাই হয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর ফুসফুস !

জ্বলছে পৃথিবীর ফুসফুস। যে জঙ্গলে পৃথিবীর সবথেকে বেশি অক্সিজেন উৎপন্ন হয় সেই জঙ্গল যেন কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপন্ন হওয়ার স্থান হিসেবে পরিণত হয়েছে। গোটা জঙ্গলে ঢুকে গিয়েছে কালো ধোঁয়া এবং আগুনের লেলিহান শিখায় ।

ব্রাজিলের সাও পাওলোতে দিনেই নেমে এসেছে রাতের অন্ধকার। পুরো বনকে যেন চেপে ধরেছে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের ইন্দ্রজাল । বহু উদ্ভিদ এবং আমাজনের এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেই সাথে বিপন্ন আমাজন জঙ্গলে বসবাসকারী বন্যপ্রাণীরাও।  দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন নদীর পাশে প্রায় 55 লক্ষ বর্গকিলোমিটার আয়তন নিয়ে গড়ে উঠেছে।সুবিশাল সৃষ্টি অরণ্য অ্যামাজন।

পৃথিবীর 20% অক্সিজেনের যোগান দাতা এই অ্যামাজন জঙ্গল । নাম-না-জানা বহু উপজাতির বাস স্থানেই অ্যামাজন জঙ্গল । রয়েছে 16 হাজার প্রজাতির উদ্ভিদ । অ্যামাজন কে বলা হয়ে থাকে পৃথিবীর ফুসফুস। কিন্তু এই পৃথিবীর ফুসফুস আজ বিপন্ন হওয়ার পথে ।

আগুনের লেলিহান শিখা ক্রমশ গ্রাস করছে এই চিরহরিৎ বনভূমি কে । তবে জঙ্গলের দাবানল নতুন কোন ঘটনা নয় । বিশ্বের বহু অরণ্যকে গ্রাস করে গ্রীষ্মকালের দাবানল।  তা নিভাতে হিমশিম খেতে হয় দমকল কর্মীদের । কিন্তু আমাজন জঙ্গলের মতো এতো ভয়ংকর দাবানলে আতঙ্কিত ব্রাজিল বাসি।

সেইসাথে আতঙ্কিত পৃথিবীর সব সচেতন নাগরিক গন । অনেকেই ব্রাজিল অরন্য নীতিকে দোষারোপ করছে । সেখানকার পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা বলছেন অ্যামাজনের শুষ্ক আবহাওয়ায় এই বনে এমন আগুন লাগাতে সাহায্য করে। এটা প্রকৃতিরই নিয়ম।

আরও পড়ুনঃ এ আমি কি দেখলাম !

প্রতিবছর অনেক গাছ মরে রোদে শুকিয়ে দায্য হয়ে ওঠে।  এরপর গরম এবং সূর্যের তাপে প্রাকৃতিকভাবেই বনে আগুন লেগে যায় । আবার অনেক সময় এই আগুন বৃষ্টির পানিতে ভিজে নিভে যায়। একটা সময় আগুন জ্বলতে জ্বলতে একাই নিভে যায় ।

আবার দেখা যায় স্থানীয়রা তাদের জমির আয়তন বৃদ্ধি করার জন্য বা খনিজ উত্তোলন এর জন্য নিজেরাই বনে আগুন লাগিয়ে দেয় বা গাছ কেটে ফেলে আরে আগুন মাঝে মাঝে বিশাল আকার ধারণ করে। এ বছরেই অরণ্যে প্রায় 72 হাজার 843 দাবানলের ঘটনা নথিভূক্ত হয়েছে।

গত বছরের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় 83 শতাংশ বেশি এবং 2013 এর তুলনায় তা প্রায় দ্বিগুণ । আগের সমস্ত রেকর্ড ছাপিয়ে গিয়েছে। মুখ ঢাকা পড়েছে সূর্যের । যেদিকেই তাকাই শুধু কুণ্ডলী পাকানো ধোঁয়া । তা থেকে ছাড় পায়নি 2700 কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ব্রাজিলের শহর সাও পাওলোর । দুপুরের আকাশে যেন রাতের অন্ধকার ।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার উপগ্রহ চিত্র ধরা পড়েছে অ্যামাজনে ঘটতে থাকা 9527 দাবানোল চিত্র । অ্যামাজনের আগুনের ওপর নজর রাখছে নাসা। আগুনের তীব্রতা চিত্র পাঠানো হচ্ছে নাসার একাধিক স্যাটেলাইটের মধ্যে । তবে আগুনের চেয়ে বিজ্ঞানীদের বেশি ভাবা তাই আগুন থেকে উৎপন্ন ধুম্রজাল প্রায় 1700 কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে এই আগুনের ধুম্রজাল।

এই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে শতশত প্রাণী । আবার অনেক প্রাণীই তাদের শরীরের কিছু পড়া অংশ নিয়ে কোনোভাবে বেঁচে আছে। এই সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে এই বনের যতবার আগুন লেগেছে তার 8 শতাংশ মানুষ জানতেই পারে না। আপনারা জেনে অবাক হবেন। যে অ্যামাজন বন প্রথম পাঁচ দিন পূর্বে থাকলেও ব্রাজিল সরকার তার কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি।

যেহেতু এই বন আমাদের গ্রহ পৃথিবীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ তাই রাশিয়া ফ্রান্স সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ব্রাজিল সরকারকে চাপ দিতে থাকে এবং তারপর ব্রাজিল সরকার ব্যবস্থা নেয় । তারপর থেকে বিভিন্ন বিখ্যাত বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব সেলিব্রেটি খেলোয়াড়ের আগুন নেভাতে এগিয়ে আসে। অনেক তারকাই তাদের প্রাইভেট প্লেন দিয়েছে আগুন নেভানোর জন্য।

এছাড়া বিশ্বের অনেক দেশ এগিয়ে এসেছে এই আগুন নেভানোর জন্য । রোনালদো তার তিনটি প্রাইভেট প্লেন দিয়েছে আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার করার জন্য । লিওনার্দো দ্য ক্যাপ্রিও আগুন অ্যামাজনের পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার জন্য দান করেছে 50 লাখ ডলার।

আপনারা জেনে অবাক হবেন যে অ্যামাজন তিন সপ্তাহের যা পড়ে গিয়েছে। তা ফিরে পেতে পৃথিবীর প্রায় 200 বছর সময় লাগবে অনেক গবেষকরা মনে করছেন। এ কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাবে এখনো অ্যামাজনের আগুন পুরোপুরিভাবে নেভানো সম্ভব হয়নি। অ্যামাজনের আগুন যেন দ্রুত এবং পুরোপুরিভাবে নেভানো যায়। সেই বিষয়ে কাজ করছে পৃথিবীর অনেক গুলো দেশ।

সত্যি সত্যিই আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আজ হুমকির মুখে লিপি অ্যামাজন জঙ্গলে প্রতিদিন তিনটি ফুটবল মাঠের সমান কংসের গাছ কাটা হচ্ছে আবার মানুষ নিজের স্বার্থে বনে আগুন দিচ্ছে। এই ভয়াবহ আগুন থেকে অ্যামাজন কে রক্ষা করার পর আগামী বছরগুলোতে যেন অ্যামাজনে আর কোন ভয়াবহ আগুন না লাগে। সে বিষয়ে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে তা না হলে আমাদের পৃথিবীর ভয়ঙ্কর হুমকির মুখে পতিত হবে।

Leave a Comment