কিভাবে দুইটি গ্রহের দূরত্ব নির্ণয় করা হয়?

বন্ধুরা আপনারা কি জানেন তিব্বতের উপর দিয়ে কেন প্লেন উড়ে না? সিমেন্ট কিভাবে তৈরি করা হয় ? বা, ফাঁসি দেওয়ার সময় জল্লাদ কয়েদির কানে গিয়ে কি বলে থাকে? এসব প্রশ্নের উত্তর যদি আপনার জানা থাকে তবে কোন সমস্যা নেই। কারণ এর আজকের পোস্ট এ আমরা বলতে চলেছি এমন কিছু  ফ্যাক্ট, যা পরলে আপনার আর একবার বুঝতে পারবেন যে পৃথিবীটা কতটা বিস্ময়কর। স্বাগতম আপনাকে আমাদের আরেকটি নতুন পোষ্টে।

কোহিনূর ডায়মন্ড

যা আজ রানী ২য় আলিজাবেদকে মুকুটকে  সুন্দরজিত করে তুলেছে। কিন্তু বন্ধুরা জানলে অবাক হবেন, এই কহিনুর ডায়মন্ড সর্বপ্রথম ছিল ভারতবর্ষে । এই কহিনুর ডায়মন্ড এর মালিক সময়ের সাথে সাথে অনেকবার পরিবর্তন হয়েছে । ভারতের তৎকালীন রাজা মহারাজা সম্রাটদের মধ্যে যেমন নাদির শাহ, শাহ সুজা , রঞ্জিত সিংহ সহ অনেক রাজা মহারাজা এবং সম্রাটদের মাথার মুকুটে এই কোহিনুর হীরা স্থান পেত। কিন্তু পরবর্তীতে ইংরেজদের সঙ্গে সন্ধী হওয়ার সময় তারা এই কোহিনুর হীরা ইংরেজদেরকে দিয়ে দেয় । আর এভাবেই কোহিনুর হীরা টি মহারানী ভিক্টোরিয়ার মাথার মুকুট এর মধ্যে স্থান পেতে লাগলো । আর এখন এ হীরাটি স্থান পেয়েছে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মাথায় ।

কলা গাছ কিভাবে জন্মায় ?

বন্ধুরা আমরা সবাই জানি যে কলা গাছ এর কোনো বীজ হয় না । কিন্তু কলা গাছ কিভাবে জন্ম নেয় ? এগুলো কি কখনো ভেবে দেখেছেন ? বন্ধুরা কলা গাছের বীজ কলা গাছের গোড়ায় তৈরি হয় । একটি কলা গাছের গোড়ায় 3 থেকে 5 টি কলা গাছের বীজ তৈরি হয় । যা সংগ্রহ করে কলা বাগান তৈরি করার জন্য সারিবদ্ধ ভাবে রোপণ করে দেয় । আর এভাবেই সারি সারি কলা গাছের বাগান তৈরি হয়ে যায় ।

আরও পড়ুনঃ সৌদি ও ডুবাইয়ের টপ ধনীদের কিছু কাজকর্ম

গ্রহের দূরত্ব নির্ণয়

আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন যে বিজ্ঞানীরা কিভাবে দুটি গ্রহ নক্ষত্রের মধ্যকার দূরত্ব নির্ণয় করে ?

যেমন ধরুন পৃথিবী এবং সূর্যের মধ্যকার দূরত্ব । জানা না থাকলে কোন সমস্যা নেই আমরা জানিয়ে দিচ্ছি। আজকের তথ্য প্রযুক্তির যুগে আমরা পৃথিবী ও সূর্যের দূরত্ব বা কোন গ্রহের মধ্যকার দূরত্ব নির্ণয় করার জন্য আর শত শত বছরের পুরনো প্যারালাক্স এর ব্যবহার করি না । এখন আমরা ব্যবহার করে থাকি রাডার টেকনোলজি । এখন বিজ্ঞানীরা গ্রহ-নক্ষত্রের মধ্যকার দূরত্ব খুব সহজেই নির্ণয় করতে পারে । যখন কোন গ্রহের দূরত্ব নির্ণয় করার প্রয়োজন পড়ে তখন বিজ্ঞানীরা রাডার টেকনোলজির মাধ্যমে সেই গ্রহে সিগন্যাল প্রারন করে, সিগন্যাল পৌঁছাতে এবং ফিরে আসতে যতটুকু সময় প্রয়োজন হয় সেই সময়কে ক্যালকুলেট করার মাধ্যমেই বিজ্ঞানীরা মডার্ন টেকনোলজির মাধ্যমে খুব সহজেই গ্রহের দূরত্ব নির্ণয় করতে সক্ষম হয়ে যায় । আর এই সিগন্যাল এর গতি আলোর গতির সমান হয়ে থাকে । আর এভাবেই বর্তমান বিজ্ঞানীরা তাদের মডার্ন টেকনোলজির মাধ্যমে গ্রহ-নক্ষত্রের মধ্যকার দূরত্ব নির্ণয় করে ফেলে ।

আপনি কি কখনো ভেবে দেখেছেন যে তিব্বতের উপর দিয়ে কেন কখনো প্লেনে উড়ে না?

প্রথমে তিব্বত সম্পর্কে কিছু বলে রাখি । তিব্বত বিশাল বিশাল উঁচু পাহাড় পর্বত দিয়ে ঘেরা একটি দেশ। তিব্বতের  বেশিরভাগ পাহাড় পর্বতের উচ্চতা 6 হাজারের ফুটের বেশি হয়ে থাকে । এভারেস্ট এবং কাঞ্চনজঙ্ঘা পর্বত এর উচ্চতা আট হাজার ফুটের বেশি ।এবার আপনাদের জানা দরকার যে কমার্শিয়াল প্লেন কত উচ্চতা দিয়ে চলাচল করে ?

কমার্শিয়াল প্লেন সাধারণত এক দেশ থেকে আরেক দেশে যাতায়াত করার সময় ৮ হাজারের মিটারের কাছাকাছি দিয়ে চলাচল করে ।কিন্তু তিব্বতের অসংখ্য পর্বত রয়েছে যার উচ্চতা ৮ হাজার মিটার এর চাইতেও বেশী হয়ে থাকে । যা প্লেনের জন্য বলা চলে দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে । বন্ধুরা আমরা সবাই জানি যে আমাদের বায়ুমণ্ডল চারটা স্তর হয়েছে । আর আমাদের পৃথিবী থেকে বায়ুমন্ডলের সবচাইতে কাছের স্তরটি হল ট্রপোস্ফিয়ার ।

যা মাটি থেকে সাত মাইল উপর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে । আর এভারেস্টের উচ্চতা 5 মাইলেরও বেশি । তিব্বত আমাদের atmosphere এমন একটি জায়গায় অবস্থিত যেখানে বায়ুমণ্ডলের এক স্তর আরা এক স্তর এর সাথে মিলিত অবস্থায় রয়েছে । অধিকাংশ বিমান ট্রপোস্ফিয়ার উপর দিয়ে চলাচল করে । কিন্তু স্ট্রাটোস্ফিয়ার দিয়ে বিমান চলাচল করতে পারে না । কারণ সেখানে অক্সিজেনের অভাব সহ নানা রকম সমস্যা দেখা দেয় । আর বন্ধুরা এগুলো মুখ্য কারণ। সহজ করে বলতে গেলে বলতে হয় একেতো তিব্বতে এভারেস্টের মতো বিশাল বিশাল পর্বতের দেওয়াল এবং সেইসঙ্গে বায়ুমণ্ডলের দুই স্তর এর মধ্যবর্তী স্থানে যাতায়াত করতে হয় । আর এই সব প্রতিকূলতা কাটিয়ে কোনভাবেই কমার্শিয়াল বিমান চলাচল করতে পারে না । এবং এ কারণেই  তিব্বতের উপর দিয়ে প্লেন চলাচল করে না ।

Leave a Comment