ক্লিনার থেকে কোটিপতি

যদি আমি আপনাদের আবর্জনার কথা বলতে চাই তাহলে প্রথমে আপনাদের মাথায় পচা ফল সবজির কথাগুলো হয়তোবা মনে আসবে। আর এই জিনিসগুলো হয়তোবা আপনি আপনার নিজের হাত দিয়ে কখনও ছুঁয়ে দেখতে চাইবেন না। কিন্তু বন্ধুরা এই দুনিয়া জুড়ে এমন কিছু ময়লা পরিষ্কারক রয়েছে যারা বিভিন্ন ময়লা আবর্জনার মধ্যে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি পেয়েছে।

আর এই গুলো খুঁজে পাওয়ার পরে তাদের এই ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করার কোন প্রয়োজনই পড়েনি। আজকের পোস্টে আমরা বলতে চলেছি এমনই কিছু ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার কারীকে যাদেরকে এই ময়লা-আবর্জনায় কোটিপতি করে দিয়েছে। স্বাগতম আপনাকে আরেকটি পোস্টে।

Airport cleaner

নর্থ কোরিয়ার এয়ারপোর্টের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার কর্মচারী প্রতিদিনের মতো এয়ারপোর্ট এর বিভিন্ন ময়লা আবর্জনা পরিস্কার করছিল। কিন্তু যখন সে পরিস্কার করছিল তখন তার মধ্যে একটি ময়লার বস্তা তার কাছে অনেক ভারী মনে হলো । তার মনে হলো এটার মধ্যে অনেক ওজনের কোন ময়লা আবর্জনা রয়েছে। এই টার মধ্যে কি আছে তা দেখার জন্য সে এক, এক করে সব আবর্জনা ঘেঁটে দেখ ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে সে কাগজে মোড়ানো একটা কিছু দেখতে পেলো।

পরবর্তীতে সে যখন সে কাগজের প্যাকেট খুলল তখন সে যা দেখলো তা সে কখনো ভাবতেও পারেনি। সে দেখল এই কাগজে মোড়ানো প্যাকেটের মধ্যে 7 Ti সোনার বার রয়েছে ।  যার মূল্য দুই কোটি 70 লক্ষ টাকা। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, এই ময়লা আবর্জনার মধ্যে কে এই সোনার বারগুলো ময়লা-আবর্জনা মনে করে ফেলে দিয়ে গিয়েছে। পরবর্তীতে কেউ কোনদিন সেই সোনার খোজে পুলিশের কাছেও যায়নি আর তাই সেগুলো বিক্রি করে আরাম-আয়েশে জীবন-যাপন করতে লাগে।

আরও পড়ুনঃ পৃথিবীর সবথেকে বুদ্ধিমান কুকুর !

Highway Cleaner

Highway cleaner রা যখন রাস্তার ময়লা পরিষ্কার করতে লাগে তখন তারা প্রায়ই রাস্তার মধ্যে গাড়ির টায়ার পড়ে থাকতে দেখে। কিন্তু দুজনের রাস্তা ক্লিনারের সাথে এমন কিছু ঘটেছে যা জানলে অবাক হয়ে যাবেন। ভারতের ২জন highway cleaner যখন রাস্তা পরিষ্কার করছিল তারা তখন একটি নষ্ট টায়ার দেখতে পান। পরবর্তীতে তারা যখন সেটার মধ্যে সার্চ করলে তখন তারা দেখতে পারলো সেখানে 70 লক্ষ টাকা কেউ একজন লুকিয়ে রেখেছে।

পরবর্তীতে তারা পুলিশের কাছে সমস্ত টাকা সোপর্দ করে দেয় এবং তারপর পুলিশ তদন্ত করে বুঝতে পারে যেমন মাদকদ্রব্য এসব কিছুর মধ্য দিয়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে ঠিক তেমনি ভাবে কেউ এটার মধ্যে টাকা গুলো লুকিয়ে রেখেছিল। কিন্তু কোনভাবেই ব্যক্তিত্ব হারিয়ে ফেলেন। তবে পরবর্তীতে পুলিশ এই সমস্ত টাকা highway cleaner দের দিয়ে দেয়।

মাঝেমধ্যে অনেক বড় বড় কোম্পানির বিভিন্ন প্রাইভেট কারণে বিপুল পরিমাণ টাকা কুচি কুচি করে ময়লা আবর্জনার স্তুপ এর মধ্যে ফেলে দিতে হয়। আর এই বিপুল পরিমাণ টাকা গুলো কুচিকুচি করার জন্য তারা রেজার মেশিন ব্যবহার করে থাকে। তারপরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা এই টাকা গুলো বস্তাভর্তি করে ময়লা আবর্জনার স্তূপে ফেলে দিয়ে আসে।এবং তারপর সেগুলো কে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। আর একে বলা হয় পলারিজিং।

এমনিভাবেই জাপানের খুব বড় একটি কোম্পানির ময়লা আবর্জনা ভর্তি ব্যাগ এবং ময়লা আবর্জনার স্তূপে ফেলার জন্য নিয়ে যাচ্ছিল এক কর্মচারী । পরবর্তীতে ময়লা আবর্জনার স্তূপে পৌঁছানোর পরে কর্মচারী প্রত্যেকটি খুলে দেখে। সেগুলোর মধ্যে দেখতে পায় কুচি কুচি করা অনেক টাকা। কিন্তু হঠাৎ করেই তার একটি ব্যাগের উপরে চোখ আটকে যায় সে দেখতে পায় সে যত টাকা আছে সব গুলো রয়েছে সেগুলো কে হয়তোবা ভুল করে কুচি কুচি করা হয়েছিল না। সেই ব্যাগে ছিলো 85 লক্ষ টাকা আর সেগুলোর মালিক হয়ে যায় সে পরিচ্ছন্নতাকর্মী।

Painting

এলিজাবেথ গিবসন নামক এক মহিলা একদিন ময়লার স্তূপের পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই মহিলাদের মধ্যে একটি পেইন্টিং দেখতে পায়। পরবর্তীতে তিনি পেইন্টিং তার বাসায় নিয়ে আসেন । কিছুদিন পরেই পেইন্টিং সম্পর্কে তিনি অনলাইনে রিসার্চ শুরু করেন। রিসার্চ করে তিনি জানতে পারেন এই পেইন্টিং কে এঁকেছিলেন 1970 সালে মেক্সিকোর একটি জনপ্রিয় আর্টিস্ট। সেই আর্টিস্ট 1 মিলিয়ন ডলার মূল্যে এই পেইন্টিংটি বিক্রি করে দেয় এবং তার কাছ থেকে কিছুদিন পরে এই পেইন্টিংটি চুরি হয়ে যায়। আর এভাবেই তিনি হয়ে গেলেন লাখোপতি।

Parl

ফিলিপাইনের এক ব্যক্তি একদিন সমুদ্রের তীরবর্তী আবর্জনার স্তূপের পাশ দিয়ে হাটছিলেন। হঠাৎ তিনি একটি ঝিনুক দেখতে পান এবং তিনি সেটি খুলে দেখেন । তিনি দেখতে পান ঝিনুকের মধ্যে একটি মুক্তা রয়েছে। তিনি ভাবলেন এটি হয়তোবা খুব বেশি দামের কোন মুক্ত নয় । তাই তিনি সেই মেয়েটিকে নিয়ে বাড়িতে যত্রতত্রভাবে ফেলে রাখলেন। হঠাৎ একদিন তার বাড়ি আগুনে পুড়ে যায় এবং তিনি হঠাৎ করে এসে দেখতে পান । পরবর্তীতে তিনি মুক্তাটিকে জুয়েলারির দোকানে নিয়ে যান। আর তারপর মুক্তার দাম জিজ্ঞেস করলে জুয়েলারি মালিক বলে ওঠে এই মুক্তার দাম 10 কোটি টাকা আর এভাবেই ঐ মানুষটি ধনি হয়ে গেলেন।

Garage

আমেরিকার এক ব্যক্তি একটি পুরাতন গাড়ির গ্যারেজ ক্রয় করেন 75000 টাকা দিয়ে । গ্যারেজটি যখন তিনি কেনেন একেবারে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। কিন্তু যখন তিনি গ্যারেজ এর মধ্যে প্রবেশ করেন এবং যখন সবকিছু ঠিকঠাক করছিলেন তখন তিনি দেখতে পান সেখানে অনেক পুরনো দিনের কিছু স্বর্ণ মুদ্রা।  বর্তমান সময়ের মূল্য প্রায় কয়েক লক্ষ ডলার। শুধু তাই না তিনি বেশ কয়েকটি রুপার বার ও দেখতে পান আর এভাবে তিনি ধনী হয়ে যান।

কোট্টা ভর্তি মুদ্রা

একবার এক কাপল কুকুরকে নিয়ে বাইরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে বের হয় । যখন তারা বাড়ি ফিরতে শুরু করে তখন তারা রাস্তার পাশ দিয়ে একটি পুরনো দিনের কৌটা দেখতে পান । তার কৌটার কাছে গিয়ে মোটা  ৮ টি কৌটা  দেখতে পায় । তারা কোর্টের ভেতরে লক্ষ্য করে দেখে হাজার 1900 শতোকে কিছু মুদ্রা।  সেই সময়ে খুবই দুর্লভ ছিল। যার বর্তমান বাজারমূল্য কয়েক লক্ষ ডলার। পোস্টটি ভালো লাগলে শেয়ার করতে পারেন।

Leave a Comment