পৃথিবীতে ঘটা ৭ টি অমিমাংশিত ঘটনা

আমাদের পৃথিবীতে প্রতিদিন নতুন নতুন এমন কিছু ঘটনা ঘটে যা আমরা প্রতিনিয়ত দেখে অবস্ত। কিন্তু পৃথিবীতে ঘটে যাওয়া এমন কিছু ঘটনা আছে যেগুলোর ব্যাখ্যা কোন বিজ্ঞানীও খুজে পায় নি। আর তখন আমাদের মনে হয় এই ঘটনা গুলো হয়ত এলিয়েন ঘটিয়েছে। আবার এমন কিছু জায়গা রয়েছে, যে জায়গা গুলো দেখলে মনে হয় যেন এইগুলো পৃথিবী  না অন্য কোন গ্রহ। আজ এমনি ৭টি ঘটনা নিয়ে কথা বলব।

Ringing rocks

peninsula এমন একটি পাথরের স্তুপ রয়েছে যা পৃথিবীর কাছে একটি বিশ্বয়। কারণ এই রহস্যময় পাথর কিভাবে কোথা থেকে এসে এখানে স্তুপ আকার ধারণ করেছে তা কেউই বলতে পারে না। শুধু তাই না এই পাথরের উপরে যদি কোনো কিছু দিয়ে আঘাত করা যায় তবে কিছু মনমুগ্ধকর মিউজিকাল ইন্সট্রুমেন্ট এর মত শব্দ তৈরি হয়।

প্রতিটা পাথরের টুকরা আলাদা আলাদা শব্দ উৎপন্ন হয়। মানুষ এখানে এসে পাথরের আঘাত করে শব্দ শুনে অনেক ইনজয় করে। তবে এমন পাথরের টুকরা সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। এ পাথরগুলো খুঁজে পাওয়া খুবই দুর্লভ ব্যাপার । তবে এই পাথরগুলো অস্তিত ভারতে রয়েছে । ভারতে কিছু মন্দিরের এই পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু এ পাথর থেকে এমন শব্দ কিভাবে উৎপন্ন হয় তা আজও বিজ্ঞানীরা সঠিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি।

তবে কেউ কেউ এমন বলে যে পাথরের এমন অদ্ভুত আকৃতির কারণে এমন অদ্ভুত শব্দ হয় । আবার কেউ কেউ বলে এই পাথরের যখন আঘাত করা হয় তখন লো ফিকিউংন্সি শব্দ উৎপন্ন হয়। কিন্তু তৎক্ষণাৎ তা শুনতে পাওয়া যায় না। কিন্তু যখন বারবার আঘাত করা হয় তখন সেই শব্দতরঙ্গ ইন্টারচুয়যাল হয়ে আমাদের কানে পৌঁছায় এবং তখনই এই শব্দ এমন শোনা যায়। কিন্তু তারপরও এই পাথরের শব্দ এমন হওয়ার কারণ বেশিরভাগ বিজ্ঞানীদের কাছে ধোঁয়াশা হয়ে রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় গর্ত

রম অ্যান্ড আর্ভ রিভার্স

বন্ধুরা এই নদীটি সত্যিই মনোমুগদ্ধকর। কারণ দেখুন নদীর দুটি একই স্থানে অবস্থিত অথচ দুই নদীর পানি রঙ দুই রকম । জেনেভায় এই দুটি নদী অবস্থিত । জেনেভা সুইজারল্যান্ড এর একটি অন্যতম সৌন্দর্যমণ্ডিত শহর। আর এই নদী যেন এই সৌন্দর্যকে আরো কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

এই নদীর বিশেষত্ব হল এই দুই নদী একইসাথে প্রবাহিত হয়ে চলেছে অথচ একটি আরেকটির সাথে মিশে যাচ্ছে না। এক পাশের নদীর পানির রং গুলো ব্লু এবং আরেক পাশের নদীর পানির রং ব্রাউন । বিজ্ঞানীরা ব্যাখ্যা করেছেন এই দুই নদীর পানির ঘনমাত্রার পার্থক্য রয়েছে।  আর তাই এরা একে অন্যের সাথে মিশে যায় না।

ব্রু লাভা

লাভার নাম শোনার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের মনে হয় যেন একটি ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ এবং সেইসাথে উত্তপ্ত গলিত লাল লাভা কথা । কিন্তু বন্ধুরা আমাদের পৃথিবীতে এমন একটি জায়গা রয়েছে যেখানে আগ্নেয়গিরির লাভা লাল রঙের পরিবর্তে নীল রঙের হয়ে থাকে। আর লাভার রঙ কেন নীল রঙের হয় তা গবেষকদের কে ব্যাখ্যা করতে দীর্ঘদিন পর্যন্ত সময় লেগেছিল।

নীল রঙের লাভা সমৃদ্দ আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখ ইন্দোনেশিয়ায় অবস্থিত। এটা দেখে যেন মনে হয় এটা কোন সায়েন্স ফিকশন মুভি দৃশ্য।  প্রথমে বিজ্ঞানীরা ভেবেছিল লাভার রং এমন হওয়ার কারণ জ্বালা মুখের তাপমাত্রা। কিন্তু বর্তমানে এই লাভার রং নীল হওয়ার মূল কারণ গবেষকরা খুঁজে পেয়েছে । গবেষকদের মতে এই জ্বালামুখ থেকে উদ্ধৃত লাভা আশেপাশের বিভিন্ন কেমিক্যাল কমপ্লেক্স দ্বারা প্রভাবিত হওয়ার ফলে এমন রং হয়ে গিয়েছে।

আগ্নেয়গিরির জ্বালামুখে সালফারের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি । আর এই লাভার যখন বাইরে বের হয়ে আসে তখন এখানে আশেপাশে ক্যামিক্যাল এবং সালফার এর সংস্পর্শে এসে এর লাল রং নীলে পরিবর্তন হয়ে যায় । গবেষকদের মতে সালফার সমৃদ্ধ গ্যাস অক্সিজেনের সংস্পর্শে এসে যখন জলতে শুরু করে  তখন এর রং নীল হয়ে যায় ।  কিন্তু বন্ধুরা অবাক করা তথ্য হলো নীল রঙের দেখা যায় কেবলমাত্র রাতের বেলায় । কারণ এই ধরনের রং দিনের বেলায় আমাদের চোখ ডিটেক্ট করতে পারে না।

বরফের প্যানিট্টেট

বন্ধুরা আমরা ইতিমধ্যে বরফের বিভিন্ন আকৃতি দেখেছি কিন্তু বন্ধুরা আপনি যদি এনডিসি অবস্থিত পাহাড়ের উপরে যান । তবে আপনি এমন আকৃতির বরফ দেখতে পাবেন যা দেখে আপনি হা করে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য হবেন। কারণ এমন আকৃতির বরফ আপই আগে কোথাও দেখেননি।

এখানকার বরফের টুকরোগুলো লম্বা এবং পাতলা হয়ে একেবারে ধারালো ব্লেড এর মত সেফ নিয়েছে। কিন্তু বন্ধুরা কিভাবে একটা নির্দিষ্ট পেটান অনুযায়ী এগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে । এই বরফে এক একটা টুকরোর উচ্চতা প্রায় ছয় ফুটের মতো । কিন্তু কোথাও কোথাও এই বরফের উচ্চতা চার ফুট পর্যন্ত দেখা গিয়েছে। ঠিক এমনি প্যানিট্টেট এর অস্তিত্ব খুঁজে পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা বৃহস্পতি গ্রহের উপগ্রহে। কিন্তু বরফে এমন আকৃতি হওয়ার কারণ কি ? বিজ্ঞানীরা এর কারণ ব্যাখ্যা করেছে এই স্থানটিতে সূর্যের আলো এমন Angle পড়ে যার ফলে বরফের টুকরোগুলো গলতে গলতে এমন এক আকৃতি ধারণ করেছে । এই প্রসেসকে সাম্মেলশন বলা হয়ে থাকে । তবে বিজ্ঞানীদের কাছে আজও এটা রহস আছে।

Rainbow mountain

বন্ধুরা এই অদ্ভুত সৌন্দর্যের পরবর্তী পেরুতে অবস্থিত এই প্রযুক্তিকে রেইনবো মাউন্টেন বলা হয়ে থাকে । আপনারা যদি এই পর্বতের ভিডিও প্রথমবার কোন ভিডিও ইমেজ দেখতে পান তবে আপনার কাছে রিয়াল নাও মনে হতে পারে। আপনার মনে হতে পারে এটি হয়তো ফটোশপের মাধ্যমে এডিট করা হয়েছে।

245 কিলোমিটার আয়তন জুড়ে এই পর্বতে অবস্থিত। পুরো পরবর্তী বিচিত্র রঙে রঙিন । এটা যেন সৃষ্টির আরো একটি বিশ্বয় । পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকে ট্যুরিস্ট এই পর্বতটি দেখতে আসে। এই পর্বতের উপরে পৌঁছান খুবই ঝুঁকিপূর্ণ । কারণ এই পর্বতের উপরে ওঠা রাস্তাটি পেরুর সবচাইতে ভয়ঙ্কর রাস্তার মধ্যে অন্যতম। কিন্ত এত সুন্দর সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য ট্যুরিস্টরা কিছুটা ঝুঁকি নিতেই পারে।

শিলাবৃষ্টি

বন্ধুরা আমরা অনেক সময় শিলাবৃষ্টি ইনজয় করে থাকি । কিন্তু ২০০৮ সালে আটই ফেব্রুয়ারি আর্জেন্টিনায় এমন একটি শিলাবৃষ্টি হয়েছিল যা দেখে স্থানীয়রা ভয়ে আঁতকে উঠেছিল। প্রথমে তারা শিলা বৃষ্টি দেখে এনজয় করছিলো । কারণ শিলাবৃষ্টি তখন মৃদুভাবে পড়তে দেখে স্থানীয়দের ভালই লাগছিল।

কিন্তু কিছুক্ষণ পর থেকে সেই শিলাবৃষ্টি ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করে । সেই শিলাবৃষ্টি রুদ্র রূপ ধারণ করে ঝড়ো হাওয়ার সাথে। একটা শিলার আয়তন ছিল তাই টেনিস বলের মত । আর সময়ের সাথে সাথে এই শিলা আকারগুলো আরো বড় হচ্ছিল । কিন্তু মাটিতে আঘাত হানার পর এগুলো টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছিল । এই শিলাবৃষ্টি শতশত গাড়ির কাচ ব্যবহার ও বিভিন্ন জিনিসপত্র ভেঙে ফেলছিল।

বন্ধুরা একবার ভেবে দেখুন এমন শিলা বৃষ্টির সময় যদি কেউ খোলা মাঠে ঘুরে বেড়ায় তাহলে তার কি অবস্থা হবে ? শিলাবৃষ্টি এমন রূপ ধারণ প্রথমবার না । এমন আরও অনেক ঘটনা ঘটেছে নানা সময়ে সারা বিশ্বজুড়ে। 24 ফেব্রুয়ারি 2018 সালে সৌদি আরবের মদিনায় এমনভাবেই একটি শিলাবৃষ্টি আঘাত হেনেছিল । যেখানে প্রচন্ড ঝড়ের সাথে শিলাবৃষ্টি গুলো ঝরে পড়ছিল।

সেই শিলা বৃষ্টির কারণে সৌদি আরবের মদিনায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। ঠিক তেমনি আরেকটি শিলা বৃষ্টি হয়েছিল 2019 সালের জুলাই মাসে মেক্সিকোতে। মেক্সিকোর বিভিন্ন শহরে দেখা যায় প্রায় 5 ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট এমন বরফের আস্তরণ । শিলা বৃষ্টির ফলে বিভিন্ন গাড়ি অর্ধেক বরফের নিচে চাপা পড়ে যায়।

মেক্সিকোতে শিলাবৃষ্টির জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল । শিলাবৃষ্টি স্তুপ উত্তরণের জন্য মেস্কিকো শহরের স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে আরো নানারকম বাহিনী যোগ দেয়। আর তাদেরকে সবাই মিলে বেশ কয়েকদিন ধরে এটা পরিষ্কার করতে হয়েছিল।

বায়োলুমিনিসেন্ট পাঙ্গাস

বন্ধুরা ভারতের পশ্চিমে একটি জঙ্গল রয়েছে । এই জঙ্গলটা যদি আপনারা দেখেন তবে আপনারা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য হবেন। কারন রাতে এই জঙ্গল ঝলমল করে জ্বলে ওঠে । বছরের কিছুদিনে জঙ্গল কিভাবে বিভিন্ন রঙের আলোকিত হয়ে যায়। বিজ্ঞানীদের মতে বায়োলুমিনিসেন্ট পাঙ্গাসের কারণেই এমনটা হয় । 

এই বায়োলুমিনিসেন্স এর জঙ্গলের গাছের শাখা প্রশাখা লেগে থাকে । আর তাই এগুলো বছরের বেশ কিছুদিন অদ্ভুত ভাবে জলতে থাকে। এমন আরো জিনিস পৃথিবীর আরো অনেক জায়গায় দেখা যায় । এই জঙ্গলটিতে অনেক প্রানীর অস্তিত্ব রয়েছে । ঠিক এমনি আরো একটি অদ্ভুত প্রকৃতির খেলা দেখা যায় পোল্যান্ডের একটি জঙ্গলে । এই জঙ্গলে প্রত্যেকটা গাছের নিচের অংশ ব্যাকা। আর এই জঙ্গলের প্রতিটা গাছের ব্যাকা দিক একই পাশে রয়েছে । গাছের নিচের অংশ এমন বাঁকা হওয়ার কারণ বিজ্ঞানিরা আজও ব্যাখ্যা করতে পারেনি।

Leave a Comment