বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী 5 টি তলোয়ার

প্রিয় বন্দুরা,

আমরা ধর্মযুদ্ধ থেকে শুরু করে রাজা-বাদশাদের আমলে বিভিন্ন যুদ্ধের তলোয়ার এর ব্যবহারের কথা শুনেছি। সারা পৃথিবীতে অনেক ধরনের তলোয়ার রয়েছে। যেগুলোর কাজ এবং আশ্চর্য ক্ষমতার কথা শুনলে, আপনিও চমকে যাবেন। আশা করি এই পোস্ট শেষ পর্যন্ত পড়বেন। কারন সবার শেষে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর পবিত্র তলোয়ার নিয়েও কথা আছে।

৫. টাইগার হুক সোর্ডস

এটি চাইনিজ কুনফু মার্শাল আর্ট জানা লোকেদের জন্য একটি ঐতিহ্যবাহী হাতিয়ার। এটি সাধারণত এক জোড়া থাকে। প্রত্যেকটা তলোয়ারের সামনে হুকের মতো আংটা আছে। যা দিয়ে শত্রুর হাতিয়ার কেড়ে নেওয়া থেকে শুরু করে তা দিয়ে সহজে অঙ্গহানীও করা যায়। এটি ধরার কাছে এক ধরনের শিল্ড আছে। আর এই শিল্ডের উপরিভাগ বেশ ধারালো। এটার অন্যতম একটা ব্যাপার হলো তলোয়ারের মাথার হুক পরস্পরের সাথে যুক্ত করে, খানিক দূরে থাকা শত্রুকে আক্রমণ করা যায়।

৪. উরোমি

তলোয়ার বলতেই আমাদের চোখে ভেসে ওঠে কোন লোহার ধাতব দন্ডের মতো কোন বস্তু। কিন্তু ভারতে প্রচলিত এই উরোমি এসব থেকে আলাদা একটা তলোয়ার। এটা দেখতে অনেকটা চাবুকের মতো এবং নমনীয় একটা তলোয়ার। প্রায় সহস্র বছরের পুরনো এই তলোয়ার পাতলা এবং অন্য সব তলোয়ারের চেয়ে লম্বাটে হয়।

ফলে এটাকে আপনি চাবুকের মতো ব্যবহার করতে পারবেন। এটি মূলত শত্রুর শরীরকে চাবুকের মতো আঘাত করার জন্যই তৈরি করা হয়েছে। এই নমনীয় তলোয়ার এর বিশেষ সুবিধা হলো, এটি দিয়ে শত্রুকে আঘাত করার সময় যদি শত্রু জাল ব্যবহার করে, তবুও ঢালের উপর দিয়ে এটি শরীর বেঁকে গিয়ে আঘাত করতে পারবে। আবার এদিকে মাথার উপর অনবরত ঘুরিয়ে আপনি নিজেরই শরীরের ঢাল তৈরি করতে পারবেন। তবে বাস্তবতা হলো আপনি যদি এটা চালাতে দক্ষ না হোন তবে অন্যের চেয়ে নিজের ক্ষতি হতে পারে। কারণ এটি এতই নমনীয়, হাতে দিয়ে নাড়াচাড়া করতে গিয়ে উল্টো নিজের পায়েই আঘাত লাগতে পারে।

আরও পড়ুনঃ পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট দেশ

৩. সিমিটার

একটি কিংবদন্তি মধ্যযুগীয় তলোয়ার। এটি শুধুমাত্র অনেক শক্তিশালী এই জন্যই বিখ্যাত ছিল না, বরং এটা হালকা ব্লেডের এর জন্য আলোচিত ছিল। তৎকালীন সময়ে এই তলোয়ার বানাতে এতে দামাস্কার ইস্পাত ব্যবহার করা হতো, ফলে এটি অধিক শক্ত এবং নমনীয় হিসেবে কাজ করত। এই সিমিটার বিখ্যাত ছিল তার বাকানো চেহারার কারনে। এই ডিজাইনের কারণে এটি নিয়ে দৌড়ে এসে আঘাত করে বস্তুকে দুই ভাগে চিড়ে ফেলা যেত। সোজা তলোয়ার দিয়ে এই কাজ করা কঠিন।

২. কোলপেস

এটি প্রাচীন কালের বিরল মিশরীর যুদ্ধ তলোয়ার। যেটি একটি শক্তিশালী হাতলের সাথে উপরের অংশ অর্ধাবৃত্তাকার ভাবে বাকানো। এর বাকানো অংশ দারুন ধারালো। যা দিয়ে নিমিষেই যে কোন কিছু কেটে দুই ভাগ করে ফেলা যায়। এর পুরো ব্লেডের অংশ হাফ মিটার লম্বা, যেটি কাছ থেকে কাউকে আঘাত করার জন্য উপযুক্ত। এর ভেতরের অংশও ধারালো, আর্তকিত হামলাও করা যায়।

১. জুলফিকার

আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর আমলে জুলফিকার ব্যবহার করা হয়েছে। নবীজির ৯টি তলোয়ার এর মধ্যে এই জুলফিকার অন্যতম কিন্তু এটি একমাএ তলোয়ার যা কিনা হারিয়ে যায়। জুলফিকার তলোয়ারটি দুই আল ফিকার নামেও পরিচিত। হয়রত আলী (রহঃ) ও এই তলোয়ারটি প্রিয় ছিল। এর অগ্রভাগে দুই সুচালো মাথা ছিল, তবে এমনটা কেন ছিল তার কারণ এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। এই ডিজাইনের কারনে এটি যে খুব আলাদা কোন সুবিধা দিত এমন নয়। যদিও বিশেষজ্ঞরা ধারণা করেন, এটি মূলত সাপের জিব্বার মতো করে তৈরি করা হয়েছে যা কিনা শত্রুকে ভয় দেখানোর জন্য যথেষ্ট। জুলফিকার একটি আরবি শব্দ এর অর্থ দাঁড়ায় মেরুদন্ডের মতো শক্ত। জুলফিকার অনেক ধরনের হলেও এর মূল বৈশিষ্ট্য এর মাথার অগ্র ভাগে দুই সুচালো মাথা।

Leave a Comment