পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ৫ জাহাজ

oasis of the seas

oasis of the seas রয়েল ক্যারিবিয়ান ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এর আন্ডারে তৈরি করা হয়েছে। এই জাহাজের সবথেকে বড় আশ্চর্যের বিষয় হল এর যাত্রী ধারণক্ষমতা।  জাহাজটিতে একবারে একসাথে 86 হাজারেরও বেশি যাত্রী বহন করতে পারে। জাহাজটির ওজন 2 লক্ষ 25 হাজার টন ।

এই জাহাজ এগারোশো 86.5 ফিট লম্বাব এবং 154 ফিট প্রস্থ বিশিষ্ট । এই জাহাজের 18 টি ডেকে উপরে এবং নিচে নামার জন্য চব্বিশটি লিফট ব্যবহৃত হয়ে থাকে। আপনি চাইলে জাহাজে পুরো শহরের সব কিছুই খুজে পাবেন।

জাহাজটি 2742 টি রুম দ্বারা সজ্জিত । যদি আপনি এই জাহাজে কোন ছুটি কাটাতে যাওয়ার কথা ভাবেন তবে আপনি ভুল কিছু ভাববেন না। এই জাহাজটি শুধুমাত্র ছুটি কাটানোর জায়গায় নয় । বরং এটি একটি হোটেল সেন্ট্রাল পার্ক সুইমিংপুল থিয়েটার এবং এছাড়া আরো যে কত বেটার অপশন রয়েছে তা পুরোপুরি দেখার সুযোগ হবে না।

RMS queen mary 2

পৃথিবী তে আজ পর্যন্ত বানানো সবথেকে বড় যাত্রী বহনকারী জাহাজ । জাহাজ টি কিনতে 5683 কোটি টাকা প্রয়োজন হয়েছিল। এই জাহাজটি এগারোশো 32 ফুট লম্বা এবং 79 হাজার 300 টন ওজন বিশিষ্ট । এত বিশাল জাহাজ চালাতে একটি বা দু’টি ইঞ্জিন যথেষ্ট নয়।  তাই এই জাহাজটি চালাতে চারটে ডিজেল ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

আরও পড়ুনঃ ছাই হয়ে যাচ্ছে পৃথিবীর ফুসফুস !

চারটে ডিজেল ইঞ্জিন জাহাজটিকে গতিশীল করে তোলে। এই জাহারজটির গতি হল 56km/hr. এই যে এত সুবিধা রয়েছে যে আপনি এটা তো একবার ভ্রমণ করতে চাইলে বারবার এটাতো ভ্রমণ করতে চাইবেন। আরএমএস কুইনমেরি কাছে 15 টি রেস্টুরেন্ট এবং বার আউটডোর স্বিমিং পুল বলরুম থিয়েটার প্লানেটরিয়াম সবকিছু জাহাজে খুঁজে পাবেন। এই জাহাজটি আটলান্টিক মহাসমুদ্র ভ্রমন করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

seawise giant

1979 সালে জাপান তৈরি করেছে পৃথিবীর মধ্যে আজ পর্যন্ত সবথেকে লম্বা জাহাজ । এর দৈর্ঘ্য পৃথিবীর সবথেকে বড় বড় বিল্ডিং এর চাইতেও বেশি । কুয়ালালামপুরে অবস্থিত পেট্রোনাস টাওয়ার আর নিউইয়র্কে অবস্থিত এম্পায়ার স্টেট বিল্ডিং এর উচ্চতা চাইতেও অনেক বেশি দীর্ঘ এই জাহাজের ।

এর দৈর্ঘ্য 1500 ফিট । আলাদা আলাদা সময় আলাদা আলাদা ভাবে পুনরায় নির্মাণ করা হয়েছে। তাই এই জাহাজের একটি নয় বরং পাঁচটি নাম রয়েছে। এই জাহাজের মালিকানা সবসময় পরিবর্তন হয়ে আসছে । ইরাক এবং ইরান এর শিকার হবার পরে এজাহার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবার পরে একে সিঙ্গাপুরে নিয়ে গিয়ে পুনরায় নির্মাণ করা হয়।

এবং একে নতুন নাম দেয়া হয় হ্যাপি জায়ান্ট কিছু বছর পরে এক ব্যবসায়ী এজেন্সিকে আবার কিনে নিয়ে নাম পরিবর্তন করে রাখে জেহেরি ফাইটিং । 2004 সালে যে আজকে আবার পুনরায় বিক্রি করে দেয় এই জাহাজের পুনরায় নামকরণ করা হয় nok navis। কিছুদিন পরে আবারো সিয়েরালিওনে বিক্রি করা হলে এই জাহাজের নামকরণ করা হয় মন্ট। 2009 সালে একে ইন্ডিয়াতে নিয়ে আসা হয় এবং শেষবারের মতো একে বিক্রি করা হয়।

ti class supertanker

এই জাহাজ হলো পৃথিবীর মধ্যে সবথেকে বড় তেল বহনকারী জাহাজ। টি আই এর মিনিং ফর ইন্টার্নেশনাল । 2002 সালে এই জাহাজের মত আরো চারটি জাহাজ বানানো হয়। এবং এদেরকে একত্রে ডাকা হয় ইউ এল সি সি।  এর অর্থ হলো আলোচনার স্কারড ক্যারেজ । এই জাহাজগুলোকে সর্বপ্রথম ফায়ারফক্স,তারা,আলহামরা এবং মেট্রোপলিস বলা হত।

কিন্তু অন্য কোম্পানি দাড়া কেনার পরেও সানিয়ান ইউরোপ আফ্রিকা এবং এশিয়ার মত নামকরণ করা হয়। এ জাহাজের ওজন অনেক বেশি হবার কারনে এই জাহাজ ছোটখাটো খালে চলতে পারে না। এই যে আজকে শুধুমাত্র কেবল গভীর সমুদ্রে চালিত করা হতো। একবার এই জাহাজ 2 মাস পর্যন্ত কোনো বিরতি না দিয়ে একটানা সমুদ্র ভ্রমণ করতে পারত।

titanic

রাশিয়ান নিউক্লিয়ার আইসব্রেকার টাইটানিক সম্পর্কে বলা যায় যে টাইটানিক এক বরফের টুকরার সাথে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায়। কিন্তু ওই সময় যদি ওটা এখনকার জাহাজগুলোর মতো হতো তবে সেটা কখনোই ঢুকতো না । কারণ এটা এমন এক জাহাজ, জাহাজ কে তৈরি করা হয়েছে কেবলমাত্র বরফে ভেঙ্গে বরফ ভেদ করে বের হওয়ার জন্য। বরফে ভেঙ্গে বরফ ভেদ করে চলার সময়ে জাহাজ খুব সহজেই 19 কিলোমিটার পার আওয়ার বেগে সামনের দিকে অগ্রসর হতে পারত। রাশিয়া একমাত্র দেশ যে এই দেশেরই কেবল রাশিয়ান নিউক্লিয়ার আইস ব্রেকার এর মত জাহাজ রয়েছে। কিন্তু এটাতো নিউক্লিয়ার ইঞ্জিন সুতরাং বুঝতেই পারছেন যে রিফিল করা কতটা প্রয়োজন হতে পারে।

Leave a Comment